অজু করার সময় বজ্রপাতে ৩ মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ণ
অজু করার সময় বজ্রপাতে ৩ মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি: নরসিংদীর মনোহরদীতে মাগরিবের নামাজের আগে অজু করার সময় আকস্মিক বজ্রাঘাতে তিন মাদ্রাসা ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও এক ছাত্র গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আজ রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের পাঁচকান্দী দক্ষিণপাড়া মদিনাতুল উলূম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

বজ্রাঘাতে নিহত ছাত্ররা হলো— কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরপাড়া এলাকার বাদল মিয়ার ছেলে জহিরুল ইসলাম (১৫), একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আবু রায়হান (১৪) এবং ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার কালিবাজার এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আবু জাফর (১২)। তারা সবাই ওই মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী ছিল। আহত অপর ছাত্রের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মাদ্রাসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যায় এলাকায় দমকা হাওয়াসহ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। মাগরিবের আজানের পর নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে বেশ কয়েকজন ছাত্র মাদ্রাসার অজুখানায় অজু করতে যায়। এ সময় আচমকা অজুখানার ওপর তীব্র শব্দে বজ্রপাত হলে চার ছাত্র গুরুতর দগ্ধ ও আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

ঘটনার পরপরই মাদ্রাসার শিক্ষকরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত পার্শ্ববর্তী শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা খোরশেদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, "নামাজের জন্য অজু করতে গিয়ে আমাদের তিনটি নিষ্পাপ সন্তান এভাবে চলে যাবে, তা ভাবতেও পারছি না।"

শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোসতানশির বিল্লাহ জানান, "বজ্রপাতে আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিন ছাত্রের মৃত্যু হয়। আহত অপর ছাত্রকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।"

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বজ্রাঘাতে তিন মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন