পাখির ডাকে ঘুমায়, পাখির ডাকে জাগে
গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বট, নিম, তেঁতুল ও বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছে পাখিরা গড়ে তুলেছে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল। এখানে রাতচোরা, শামুকখোল, সাদা বক, কানা বক, শঙ্খচোরার পাশাপাশি পানকৌড়ি ও হরিয়ালের মতো পাখির নিয়মিত বিচরণ। গ্রামবাসী জানান, প্রতি বছর বৈশাখ মাসে পাখিরা এখানে এসে বাসা বাঁধে ও ডিম পাড়ে। আষাঢ় মাসের দিকে বাচ্চা ফোটে। যদিও শীতের শুরুতে অনেক পাখি অন্যত্র চলে যায়, কিন্তু সাদা বক ও পানকৌড়ির একটি বড় অংশ সারাবছর এই গ্রামেই অবস্থান করে।
ধনভাঙ্গা গ্রামের মানুষ পাখিগুলোকে নিজেদের সন্তানের মতো আগলে রাখেন। স্থানীয় আল আমিন জানান, এলাকাবাসী এখন পাখিদের অভিভাবক। কেউ যেন পাখিদের কোনো ক্ষতি না করে বা বিরক্ত না করে, সেদিকে তারা তীক্ষ্ণ নজর রাখেন। ঝড়ে কোনো পাখির ছানা নিচে পড়ে গেলে তারা পরম মমতায় সেগুলোকে আবার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে দেন।
গ্রামের এই নান্দনিক দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। দর্শনার্থী জাকির হোসেন ও রফিকুল্লাহ চৌধুরী গ্রামবাসীর এই সচেতনতাকে ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পাখি সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহাবুবুল আলম বলেন, “পাখি প্রকৃতির অনন্য সম্পদ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভূমিকা অপরিসীম। যদি কোনো পাখি আঘাতপ্রাপ্ত হয় বা চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তবে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে সেবা প্রদান করা হবে।”
প্রকৃতিপ্রেমী গ্রামবাসীর এই অসামান্য উদ্যোগ ও আন্তরিকতায় ধনভাঙ্গা গ্রাম আজ একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জান্নাত সকালবেলা
|