কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইসলামের আগমন যেভাবে

প্রকাশ: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ণ
কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইসলামের আগমন যেভাবে

ধর্ম ডেস্ক: কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইসলাম একটি সংখ্যালঘু ধর্ম হিসেবে পরিচিত। মূলত তেল শিল্পে কর্মরত বিদেশি প্রবাসী কর্মী ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আগত অভিবাসীদের মাধ্যমেই দেশটিতে ইসলামের বিস্তার ঘটেছে। ২০১২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাত্র ২ শতাংশ মুসলিম হলেও, হাই ইসলামিক কাউন্সিল অব কঙ্গোর দাবি অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকসহ মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ মুসলিম।

উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের সময় এই অঞ্চলে ইসলামের প্রথম সূচনা হয়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প, যেমন কঙ্গো-ওশেন রেলওয়ের জন্য সেনেগাল, মালি ও বেনিনের মতো মুসলিম প্রধান অঞ্চল থেকে শ্রমিক ও সৈনিকদের আনা হয়। তারাই ব্রাজাবিল এবং পোয়াঁত-নোয়ারের মতো শহরগুলোতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভিত্তি স্থাপন করেন। তবে তৎকালীন ফরাসি কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণে উৎসাহিত না করায় ইসলাম দীর্ঘ সময় ব্যক্তিগত আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিল।

১৯৬০ সালে স্বাধীনতার পর ১৯৬৯ সালের মার্কসবাদী শাসনামলে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও, ১৯৯০-এর দশকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহালের পর মুসলিম জনসংখ্যায় নতুন গতি আসে। বর্তমান কঙ্গোতে বসবাসরত মুসলিমদের প্রায় সবাই সুন্নি মতাদর্শী। ব্রাজাবিল এবং পোয়াঁত-নোয়ার শহরের কেন্দ্রবিন্দুতেই তাদের জনবসতি বেশি, তবে গ্রামীণ অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।

কঙ্গোর মুসলিমদের প্রধান প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা হিসেবে ‘হাই ইসলামিক কাউন্সিল অব কঙ্গো’ (সিএসআইসি) কাজ করছে। তারা বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, রমজান পালন এবং আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টান সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনা করে। নারীদের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে ‘ব্রাজাবিল মুসলিম নারী সমিতি’-র মতো বিভিন্ন সংগঠনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কঙ্গো একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও, নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের কিছু কঠোর নীতিমালা রয়েছে। আঞ্চলিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় জনসমক্ষে নিকাব বা বোরকার মতো মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি মুসলিমদের মসজিদে রাত কাটানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে মুসলিমদের ওপর পদ্ধতিগত কোনো নিপীড়নের নজির দেশটিতে নেই।

পরিশেষে, খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে মুসলিমরা বর্তমানে তুলনামূলক ধর্মীয় সহনশীলতার পরিবেশে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোনো বড় ধরনের ধর্মীয় সহিংসতা না ঘটলেও, খ্রিষ্টানদের মতো রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার দৌড়ঝাঁপে মুসলিমরা এখনো অনেকটা পিছিয়ে আছেন।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন