প্রকৃতির বিস্ময় বাংলাদেশের ঝর্ণা রানী খৈয়াছড়া

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রকৃতির বিস্ময় বাংলাদেশের ঝর্ণা রানী খৈয়াছড়া

আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা আর ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে প্রকৃতি যখন সবটুকু সবুজ নিয়ে সেজেছে, ঠিক তখনই পাহাড়ের বুক চিরে জেগে উঠেছে এক রূপবতী জলধারা—খৈয়াছড়া। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের এই ঝর্ণাটি কেবল একটি জলপ্রপাত নয়, যেন পাহাড়ের অন্দরে লুকিয়ে থাকা এক রূপকথার রাজপ্রাসাদ। এর অনন্য সৌন্দর্যের কারণে একে ডাকা হয় ‘বাংলাদেশের ঝর্ণা রানী’।

ধারণা করা হয়, খৈয়াছড়া ঝর্ণাটি প্রায় ৫০ বছর আগে থেকেই প্রবাহিত হচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও ঝোপঝাড়ের আধিক্যের কারণে এটি লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। ২০১৭ সালে সরকার চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকার এই ঝর্ণাকে কেন্দ্র করে ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে। বর্তমানে এটি জাতীয় উদ্যানের আওতাভুক্ত।

বড়তাকিয়া বাজার থেকে মাত্র ৪.২ কিলোমিটার দূরে এই মায়াবী ঝর্ণার অবস্থান। ঝর্ণার মূল পয়েন্টে পৌঁছাতে আপনাকে পাড়ি দিতে হবে কর্দমাক্ত মেঠো পথ, ধানক্ষেত আর পাহাড়ি ঝিরিপথ।

পাহাড়ি পথে হাঁটার জন্য ৫ টাকা দিয়ে একটি বাঁশের লাঠি কিনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। গভীর কাদা ও পানির স্রোতে ভারসাম্য ধরে রাখতে এটি সাহায্য করবে।খৈয়াছড়ায় সাতটি থেকে শুরু করে ১১টি ধাপের কথা প্রচলিত আছে। প্রথম ধাপটি নিচেই অবস্থিত, তবে উপরের ধাপগুলো দেখতে হলে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে চড়তে হয়। সর্বশেষ ধাপটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০০ ফুট উঁচুতে, যেখান থেকে দূরের সমুদ্র দেখা যায়।

বাসে করে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজারে নামতে হবে (ভাড়া ৪২০-১১০০ টাকা)। ট্রেনে গেলে ফেনী স্টেশনে নেমে মহিপাল হয়ে লোকাল বাসে বড়তাকিয়া আসা যায়। বাজার থেকে সিএনজিতে করে ঝিরিপথ পর্যন্ত গিয়ে ট্র্যাকিং শুরু করতে হয়।বর্ষায় পাহাড় অত্যন্ত পিচ্ছিল থাকে। তাই অবশ্যই ভালো গ্রিপের প্লাস্টিকের জুতা ব্যবহার করতে হবে। পাহাড়ি ঢল নামলে ঝিরিপথ পাড়ি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।ঝর্ণার পথে স্থানীয় হোটেলগুলোতে দুপুরের খাবারের অর্ডার দেওয়া যায়। রাতে থাকার জন্য সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন মানসম্মত হোটেলে (ভাড়া ৬০০-৩০০০ টাকা) বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে।

পাহাড়ের সৌন্দর্য রক্ষায় চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল বা পলিথিন ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না। প্রকৃতির নীরবতা ও শীতলতা উপভোগ করে ‘ঝর্ণা রানী’কে তার আপন রূপে বেঁচে থাকতে দিন।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন