এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে স্কাউট-বিএনসিসি মোতায়েন ও চেয়ার রাখার নির্দেশ
শিক্ষা প্রতিবেদক: চলমান উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত জনসমাগম বা বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এক ব্যতিক্রমী নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রগুলোর বাইরে শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড ও বিএনসিসি (BNCC) সদস্য মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের সাথে আসা অভিভাবকদের দুর্ভোগ ও কষ্টের কথা বিবেচনা করে কেন্দ্র প্রাঙ্গণে বা উপযুক্ত স্থানে অপেক্ষমাণ শেড ও বসার উপযোগী পর্যাপ্ত চেয়ারের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। পরবর্তীতে বোর্ডের আওতাধীন সকল পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিবদের কাছে এটি জরুরি চিঠি আকারে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, “এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সার্বিক সুবিধা, নিরাপত্তা ও কল্যাণের কথা আন্তরিকভাবে বিবেচনা করে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে নিরাপদ ও উপযুক্ত স্থানে রোদে বা বৃষ্টিতে দাঁড়ানোর হাত থেকে বাঁচতে অপেক্ষমাণ শেডসহ বসার জন্য পর্যাপ্ত চেয়ার স্থাপন করতে হবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের বাইরের কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অনাকাঙ্ক্ষিত জনসমাগম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয়সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড এবং বিএনসিসি সদস্যদের নিয়োগের বিষয়ে জরুরি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।”
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছরই এইচএসসি পরীক্ষার সময় কেন্দ্রগুলোর বাইরে পরীক্ষার্থীদের চেয়ে অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় বেশি দেখা যায়। এতে একদিকে যেমন কেন্দ্রের মূল ফটকে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে অভিভাবকেরাও চরম ভোগান্তির শিকার হন। বিশেষ করে তীব্র গরম কিংবা বর্ষার এই মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা নারী ও বয়স্ক অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে।
বোর্ডের এই নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্রের বাইরে শৃঙ্খলা ফিরে আসার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা শান্তিমতো পরীক্ষা দিতে পারবে এবং বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকেরাও কিছুটা স্বস্তিতে বসার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
|