খামেনির মরদেহ নেওয়া হলো হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
খামেনির মরদেহ নেওয়া হলো হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সদ্যপ্রয়াত ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ বহনকারী কফিনটি কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ঠিক সেই সুনির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং’ (আইআরআইবি) আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইআরআইবি-এর তথ্য অনুযায়ী, অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে একটি অঘোষিত ও বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ নেতা খামেনির মরদেহটি ঠিক সেই স্থানেই ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যেখানে হামলার মাধ্যমে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল।

এদিকে, সাবেক এই সর্বোচ্চ নেতার মহাপ্রয়াণ ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। তাদের অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্যমতে, রাজধানী তেহরানে আগামী ৪ ও ৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বহু-দিনব্যাপী এই গণ বিদায় (জানাজা) অনুষ্ঠানে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রেকর্ড সংখ্যক—প্রায় ২ কোটি পর্যন্ত মানুষের সমাগম হতে পারে বলে জোর আশা করা হচ্ছে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এই আকস্মিক ও বেদনাদায়ক মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি অফিশিয়াল পোস্টে জানানো হয়, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেছেন। দীর্ঘ এই ফোনালাপে আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনির শাহাদাতবরণে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা, কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতি, লেবাননের যুদ্ধবিরতি এবং চলমান নানান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

অন্যদিকে, খামেনির বৈশ্বিক স্মরণে ও শ্রদ্ধায় ঘানায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস থেকেও একটি বিশেষ আবেঘন ও ঐতিহাসিক শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রকাশ করা হয়েছে। বিগত ২০১৬ সালে ইরানের রাজধানী তেহরানে তৎকালীন ঘানার রাষ্ট্রপতি জন ড্রামানি মাহামা ও আয়াতুল্লাহ খামেনির মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহাসিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা স্মরণ করে এই শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এক্স-এর একটি পোস্টে ঘানাস্থ ইরানি দূতাবাস বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, তৎকালীন শীর্ষ বৈঠকে খামেনি নিজের দেশের কোনো বৈষয়িক লাভ, বড় তেল চুক্তি বা বাণিজ্যিক স্মারককিপি নিয়ে মোটেও কথা বলেননি; বরং আফ্রিকান মহাদেশে কী ঘটছে এবং সেখানকার শোষিত মানুষের উন্নয়ন কীভাবে সম্ভব—তা নিয়েই তিনি বিস্তারিত ও দরদি আলোচনা করেছিলেন।

মন্তব্য করুন