পরিবেশ সচেতনতার কথা বলে ট্রলের শিকার দিয়া মির্জা

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
পরিবেশ সচেতনতার কথা বলে ট্রলের শিকার দিয়া মির্জা

বিনোদন ডেস্ক: ২০০০ সালে ‘মিস এশিয়া প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল’ খেতাব জয়ের পর ২০০১ সালে ব্লকবাস্টার ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে পা রেখেছিলেন দিয়া মির্জা। এরপর ‘লাগে রাহো মুন্না ভাই’, ‘সঞ্জু’, ‘থাপ্পড়’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি। ২০২১ সালে ব্যবসায়ী বৈভব রেখিকে বিয়ের পর অভিনয়ে কিছুটা অনিয়মিত হলেও বর্তমান সময়ে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ পরিবেশকর্মী হিসেবেই বিশ্বজুড়ে বেশি পরিচিত। তবে সম্প্রতি এক পডকাস্টে পরিবেশ সচেতনতা ও প্লাস্টিক বর্জন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নেটিজেনদের তীব্র কটাক্ষ ও ট্রলের শিকার হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ঘটনার সূত্রপাত অভিনেত্রী সোহা আলী খানের একটি পডকাস্টে। সেখানে দিয়া মির্জা তাঁর ৫ বছর বয়সী ছেলে অভ্যিয়ানের একটি গল্প শোনান। তিনি জানান, একবার এক ডেলিভারি বয় প্লাস্টিকের ব্যাগে করে তাঁদের বাসায় ডাব নিয়ে এসেছিলেন। প্লাস্টিক ব্যবহারে কঠোর বিরোধী দিয়া বিষয়টি দেখে বিরক্ত হন। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “বেচারা জানত না কার বাসায় প্লাস্টিক নিয়ে এসেছে।” মায়ের দেখাদেখি ৫ বছরের অভ্যিয়ানও দরজা খুলে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ডেলিভারি বয়কে বলে, “ভাইয়া প্লাস্টিক ব্যাগে এনেছেন কেন? আমাদের বাসায় প্লাস্টিক নিষেধ। আপনি এটাকে প্লাস্টিক থেকে বের করুন, নিচে রাখুন এবং প্লাস্টিক ব্যাগ ও প্লাস্টিক স্ট্র নিয়ে যান।” সোশায়ের পডকাস্টে সোফাও বাচ্চার এই সচেতনতাকে ‘নিজের বিশ্বাসে অটল থাকা’ বলে প্রশংসা করেন।

তবে এই পডকাস্টের ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা দিয়া মির্জা ও তাঁর ছেলের ওপর চড়াও হন। সোহার দৃষ্টিতে যা ‘বিশ্বাস’, নেটিজেনদের একাংশের কাছে তা মনে হয়েছে ‘অহঙ্কার’ ও ‘ভণ্ডামি’। একজন মন্তব্য করেন, “এদের অধিকারবোধের বাড়াবাড়ি সত্যিই অবিশ্বাস্য, এটা তাদের মৌলিক ভদ্রতাবোধকেও অন্ধ করে দেয়। প্লাস্টিক না চাইলে নিজেই ঠেলাগাড়িতে গিয়ে কাগজের ব্যাগে করে কিনে আনুন।” অন্য একজন লিখেছেন, “এই ভিডিওটি দুটি ভিন্ন ভারতকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে—একটি ছেলে যার বাস্তব পৃথিবী কীভাবে চলে সে সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই; এবং একজন ডেলিভারিম্যান যার মূল ফোকাস হলো কোনোমতে দিন গুজরান করা।”

দিয়া মির্জার ওপর এমন নিয়মতান্ত্রিক অনলাইন হেনেস্তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পাল্টা আক্রমণ করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা। তারকাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিচা ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেখেন, “আপনারা সবাই অবাক হন যে কেন অভিনেতারা মুখ খোলেন না? মুখ খুললেই কিছু মগজহীন মানুষের হেনস্থা সইতে হয়। অবশ্যই তারকাদের ওপর চড়াও হোন ভাই, অভিনেতাদের মানসিক স্বাস্থ্যের কী বা আর আসে যায়! মাঝেমধ্যেই তো আত্মহত্যা করে মুখরোচক খবরের জোগান দেওয়াও শিল্পীদের দায়িত্ব হওয়া উচিত, তাই না?”

উত্তেজিত রিচা আরও যোগ করেন, “সচেতন নারীরা লিপস্টিক, বিকিনি বা মেকআপের বাইরে কোনো কথা বললেই তাদের লজ্জিত করা হবে।” দিয়া মির্জার পরিবেশগত অবদানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সমালোচকদের গুগলে সার্চ করার পরামর্শ দেন এবং জানান যে, দিয়া পরিবেশের জন্য যা করেন, এই ট্রলকারীরা সারা বছরেও তা করেন না। এমনকি দিয়া নিজের বিয়েতে অতিথিদের ১১০০ গাছ উপহার দিয়েছিলেন বলেও জানান রিচা।

উল্লেখ্য, দিয়া মির্জা গত এক দশক ধরে ব্যক্তিগত জীবনে প্লাস্টিক বর্জন করেছেন। তিনি জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) শুভেচ্ছা দূত এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDG) বিশেষ দূত হিসেবেও কাজ করছেন। ২০২৩ সালে বিবিসি তাঁকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় স্থান দিয়েছিল।

মন্তব্য করুন