জন্মহার বাড়াতে ফ্রান্সে মা-বাবার জন্য বিশেষ ছুটি

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ণ
জন্মহার বাড়াতে ফ্রান্সে মা-বাবার জন্য বিশেষ ছুটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দেশে ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকা জন্মহারের গতি ফেরাতে এক অভিনব ও যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ‘জনসংখ্যাগত পুনর্গঠন’ (Demographic Rearmament) পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি নতুন এই অতিরিক্ত বেতনসহ অভিভাবকত্ব ছুটি (Parental Leave) কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় সন্তানের মা এবং বাবা—উভয়ই সমানভাবে ছুটির সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

এর আগে ফ্রান্সে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে মায়েদের জন্য প্রায় চার মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং বাবাদের জন্য ২৮ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটির আইনি বিধান ছিল। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পূর্বের বিদ্যমান এই ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাবা-মা চাইলে অতিরিক্ত আরও এক বা দুই মাসের বিশেষ ছুটি নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন।

এই অতিরিক্ত ছুটির প্রথম মাসে অভিভাবকেরা তাঁদের মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় মাসে ৬০ শতাংশ অর্থ সরকারি ভাতা হিসেবে পাবেন। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের মা-বাবা এবং কোনো শিশু দত্তক গ্রহণকারী অভিভাবকেরা এই নতুন সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।

বর্তমানে সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুড়েই জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের (INSEE) সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, গত বছর ফ্রান্সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে শিশুর জন্মহার কম রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২৪ সালেই প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দেশের এই তীব্র নিম্নমুখী জন্মহার এবং বন্ধ্যাত্ব সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি বিশেষ জাতীয় পরিকল্পনা উন্মোচন করেছিলেন, যারই ধারাবাহিকতায় এই নতুন নীতি বাস্তবায়ন করা হলো।

এদিকে সরকারের এই নতুন সংস্কার উদ্যোগকে পুরোপুরি স্বাগত জানাতে পারছে না দেশটির একাধিক নারী অধিকারবাদী সংগঠন। নারীবাদী (Feminist) গ্রুপগুলোর মতে, এই সংস্কার নীতি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খুব একটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে না।

তাদের দাবি, সাধারণত পরিবারগুলোতে এখনো পুরুষের তুলনায় নারীদের গড় আয় কিছুটা কম থাকে। ফলে অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে এই অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বভাবতই নারীরাই বেশি এগিয়ে থাকবেন। আর দীর্ঘ সময় কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে থাকার কারণে করপোরেট ও পেশাদার জীবনে নারীরা পুরুষদের চেয়ে আরও পিছিয়ে পড়তে পারেন।

সূত্র: সুইডেন হেরাল্ড

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন