জাতিসংঘের সামনে তিব্বতের পতাকা হাতে ব্যক্তির আত্মহত্যা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে তিব্বতের পতাকা হাতে নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন এক ব্যক্তি। ৫২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মার্কিন সংবাদসংস্থা ‘এপি’ (AP) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ একটি ফোন পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে তাঁরা ওই ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনকভাবে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন সুনির্দিষ্ট দাবিতে তিনি এমন চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। নিহতের পরিবারের সদস্যদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক বার্তা না পৌঁছানোয় তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দিনের নির্ধারিত সব দাপ্তরিক বৈঠক ও অধিবেশন শেষ হওয়ার পর সদর দপ্তরের বাইরে এই ঘটনাটি ঘটে। এর ফলে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ কোনো কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেনি।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা তিব্বত সংকটের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আত্মাহুতির ঘটনাটি ঘটল। চীনের দাবি, ৭০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিব্বত তাদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ডের অংশ এবং ১৯৫১ সাল থেকে দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি হিমালয় অঞ্চলের এই এলাকা শাসন করে আসছে।
তবে তিব্বতিদের বড় একটি অংশের দাবি, ইতিহাসের দীর্ঘ সময়জুড়ে তিব্বত কার্যত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে বেইজিংয়ের কঠোর শাসন ও সাংস্কৃতিক দমনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ এবং বিভিন্ন উপায়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
মানবাধিকার সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর টিবেট’-এর তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের স্বাধীনতার দাবি ও বেইজিংয়ের শাসনের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৫০ জনেরও বেশি তিব্বতি নিজেদের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চীন তিব্বতের নির্বাসিত সরকার ‘সেন্ট্রাল টিবেটান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-কে স্বীকৃতি দেয় না। এছাড়া ২০১০ সালের পর থেকে তিব্বতিদের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেইজিং কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনাতেও বসেনি।
সূত্র: আল জাজিরা
এআইএল/সকালবেলা
|