ফ্রান্সে তীব্র তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ২ হাজার ২৫ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৯ অপরাহ্ণ
ফ্রান্সে তীব্র তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ২ হাজার ২৫ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু
তীব্র গরমে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের সামনের ফোয়ারার পানিতে শরীর ভিজিয়ে নিচ্ছেন পর্যটকরা (ফাইল ছবি: রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে চলা জলবায়ু পরিবর্তনের চরম রূপ দেখছে ফ্রান্স। দেশটিতে চলমান তীব্র ও নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের কারণে গত ২২ জুন থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা ‘পাবলিক হেলথ ফ্রান্স’ আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) এক আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পাবলিক হেলথ ফ্রান্স জানায়, তীব্র গরমের কারণে ওই নির্দিষ্ট এক সপ্তাহেই দেশটিতে স্বাভাবিক গড় মৃত্যুর চেয়ে ২ হাজার ২৫ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মাঠপর্যায়ের প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি এই হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। এই তাপপ্রবাহের সবচেয়ে মারাত্মক ও ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে রাজধানী প্যারিস এবং এর সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে, যেখানে সাধারণ সময়ের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক ধাক্কায় ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া দেশটির ‘পে দ্য লা লোয়ার’ অঞ্চলেও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য ও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে দেখা গেছে।

এদিকে, দেশজুড়ে এমন চরম ও বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সরকারের পূর্বপ্রস্তুতি এবং গৃহীত পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশটির প্রধান বিরোধী দল ‘গ্রিনস’ সরকারের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবও জমা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের এই চরম সময়ে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে ফ্রান্সে টানা প্রায় ১১ দিন ধরে রেকর্ড-ভাঙা ও তীব্র তাপপ্রবাহ চলেছে। এই সময়ে দেশটির অধিকাংশ অঞ্চলের তাপমাত্রা নিয়মিত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি রেকর্ড করা হয়েছিল, যা জনজীবনকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তোলে।

ফ্রান্সের ইতিহাসে এর আগে ২০০৩ সালের জুন-আগস্টের ঐতিহাসিক তাপপ্রবাহে দেশটিতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যাদের মধ্যে একটি বিশাল অংশই ছিলেন নিঃসঙ্গ ও বয়স্ক নাগরিক। তবে ফ্রান্সের বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট দেশের মানুষকে কিছুটা আশ্বস্ত করে বলেছেন, “এবারের পরিস্থিতি ও আবহাওয়া পরিস্থিতি ২০০৩ সালের মতো অতটা প্রলয়ঙ্করী ও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আমরা মনে করছি না।”

অন্যদিকে, প্যারিসের সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার প্রধান নিকোলাস রেভেল পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, এবারের তাপপ্রবাহে মৃত্যুর চূড়ান্ত সংখ্যা ২০০৩ সালের সেই মহাসংকটের তুলনায় অনেক কম হতে পারে, তবে তা নিশ্চিতভাবেই গত বছরের (২০২৫ সাল) গ্রীষ্মকালীন মৃত্যুর রেকর্ডের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে গরমজনিত রোগীর চাপ সামাল দিতে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

মন্তব্য করুন