লিভ্রারিয়া লেলো-র ভেতরে দুয়া লিপার প্রথম ফিজিক্যাল লাইব্রেরি

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ণ
লিভ্রারিয়া লেলো-র ভেতরে দুয়া লিপার প্রথম ফিজিক্যাল লাইব্রেরি
পর্তুগালে নিজের প্রথম ফিজিক্যাল লাইব্রেরি উদ্বোধনের মুহূর্তে পপ তারকা দুয়া লিপা (ফাইল ছবি)

বিনোদন ডেস্ক: বিশ্বখ্যাত পপ তারকা দুয়া লিপা এবার ধরা দিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে, একজন খাঁটি বইপ্রেমী ও মুক্ত চিন্তার অগ্রদূত হিসেবে। পর্তুগালের ঐতিহাসিক পোর্তো শহরে বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ ও সেন্সরশিপের শিকার হওয়া বই নিয়ে একটি স্থায়ী লাইব্রেরি চালু করেছেন এই ব্রিটিশ গায়িকা। ‘দ্য ম্যানিফেস্টো লাইব্রেরি’ নামের এই ব্যতিক্রমী ও সাহসী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের মুক্ত চিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বই পড়ার বৈশ্বিক সংস্কৃতিকে নতুন করে উৎসাহিত করা।

গত ২৭ জুন পর্তুগালে অনুষ্ঠিত ‘বাবেল ইন্টারন্যাশনাল বুক ফেস্টিভ্যাল’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ লাইব্রেরিটির উদ্বোধন করা হয়। লাইব্রেরিটি পর্তুগালের বিশ্ববিখ্যাত ও নান্দনিক বইয়ের দোকান ‘লিভ্রারিয়া লেলো’-র ভেতরেই স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে। ২০২২ সালে দুয়া লিপার ব্যক্তিগতভাবে চালু করা জনপ্রিয় ডিজিটাল উদ্যোগ ‘সার্ভিস-৯৫ (Service95) বুক ক্লাব’-েরই একটি বাস্তব বা ফিজিক্যাল সম্প্রসারিত রূপ হলো এই লাইব্রেরি। এটি দুয়া লিপার তত্ত্বাবধানে তৈরি প্রথম ফিজিক্যাল লাইব্রেরি।

লাইব্রেরি উদ্বোধনের ঐতিহাসিক মুহূর্তে এক আবেগঘন বক্তৃতায় দুয়া লিপা বলেন, “যখন কোনো বই নিষিদ্ধ করা হয়, তখন শুধু একটি গল্পই সমাজ থেকে হারিয়ে যায় না; বরং হারিয়ে যায় মানুষের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার, নিজের মতপ্রকাশ করার এবং প্রচলিত ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করার মৌলিক সুযোগ।” তিনি আরও যোগ করেন, এই লাইব্রেরিটি মূলত সেই সব সাহসী লেখক, যুগান্তকারী বই ও পাঠকদের জন্য উৎসর্গীকৃত, যারা মানুষের স্বাধীন চিন্তার শক্তিতে গভীরভাবে বিশ্বাস করেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে ‘দ্য ম্যানিফেস্টো লাইব্রেরি’-তে বিশ্ব ইতিহাসের অত্যন্ত প্রভাবশালী ১০০টি বই স্থান পেয়েছে, যেগুলো ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে কোনো না কোনো দেশে নিষিদ্ধ হয়েছে অথবা তীব্র সেন্সরশিপের মুখে পড়েছে। পাঠকদের সুবিধার্থে বইগুলোকে প্রধান চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে আলাদাভাবে সাজানো হয়েছে—ক্ষমতা (Power), নিয়ন্ত্রণ (Control), কণ্ঠস্বর (Voice) এবং স্মৃতি (Memory)।

এই লাইব্রেরির সমৃদ্ধ সংগ্রহে রয়েছে মার্গারেট অ্যাটউডের সাড়া জাগানো ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’, জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী ‘১৯৮৪’, ফরাসি নারীবাদী দার্শনিক সিমোন দ্য বোভোয়ারের ‘দ্য সেকেন্ড সেক্স’, ইয়োকো ওগাওয়ার ‘দ্য মেমোরি পুলিশ’ এবং বিশ্বজুড়ে তুমুল বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদির ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর মতো সব বিশ্বখ্যাত ও আলোচিত বই।

দুয়া লিপা জানান, তিনি মনে-প্রাণে চান এই লাইব্রেরিটি সারা বিশ্বের লেখক ও পাঠকদের জন্য একটি নিরাপদ এবং উন্মুক্ত স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠুক, যেখানে কোনো বাধা ছাড়াই সবাই স্বাধীনভাবে বই পড়তে পারবেন, নতুন সব ধারণা সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং নিজেদের মধ্যে সুস্থ মতবিনিময় করতে পারবেন।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও অনুন্নত দেশে, বিশেষ করে বিভিন্ন স্কুল ও পাবলিক লাইব্রেরিতে নির্দিষ্ট আদর্শ বা রাজনৈতিক কারণে বই নিষিদ্ধ করার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ঠিক এমন একটি জটিল ও সেন্সরশিপের সময়ে পাঠকদের সামনে ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ, বৈপ্লবিক ও বিতর্কিত বইগুলো সহজে তুলে ধরতেই দুয়া লিপা এই সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সাহিত্যিক মহল।

মন্তব্য করুন