এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বসার জায়গা নিয়ে বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ণ
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বসার জায়গা নিয়ে বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলমান এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এ অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার কষ্ট ও চরম ভোগান্তি লাঘবে একটি বিশেষ ও মানবিক নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এখন থেকে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের সুবিধার্থে নিরাপদ শেড এবং বসার জন্য চেয়ার স্থাপন করতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা এক জরুরি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, চলতি এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে লক্ষ্য করা গেছে, পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা ও অবস্থান করেন। কিন্তু দেশের অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরেই অভিভাবকদের জন্য কোনো নির্ধারিত অপেক্ষমাণ শেড বা ন্যূনতম বসার স্থান নেই। এর ফলে চলমান বর্ষা মৌসুমের আকস্মিক বৃষ্টি, তীব্র রোদ কিংবা যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে অভিভাবকদের অত্যন্ত কষ্টকর ও মানবেতর পরিবেশে রাস্তার ওপর অবস্থান করতে হয়

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শুধু বসার জায়গার অভাবই নয়, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর বাইরে অভিভাবকদের এই বিশাল অবস্থান ও চলাচল সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড বা বিএনসিসি সদস্য নিয়োজিত না থাকায় প্রায়শই অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড়, তীব্র যানজট, বিশৃঙ্খলা এবং সাধারণ পথচারীদের জন্য জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে।

এই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সুবিধার্থে কেন্দ্রের বাইরে নিরাপদ ও উপযুক্ত স্থানে অপেক্ষমাণ শেডসহ বসার জন্য পর্যাপ্ত চেয়ার স্থাপনের জন্য কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। একই সাথে কেন্দ্রের বাইরের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত জনসমাগম সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড অথবা বিএনসিসি সদস্য নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের এই সময়োপযোগী ও মানবিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ অভিভাবকেরা। তাঁরা মনে করছেন, এই নির্দেশনাটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে কেন্দ্রের বাইরের পরিবেশ যেমন উন্নত হবে, তেমনি দীর্ঘ তিন ঘণ্টা রোদে-বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকার শারীরিক ও মানসিক কষ্ট থেকেও রেহাই পাবেন হাজারো অভিভাবক।

মন্তব্য করুন