ব্যান্ড পার্টি ও পালকি নিয়ে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিলেন অভিনেতা
বিনোদন প্রতিবেদক: নানা জল্পনা-কল্পনা আর উৎসবের আবহে আজ শুরু হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। সকাল থেকেই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে বসেছে তারকাদের মেলা। ভোটার উপস্থিতি সকালের দিকে কিছুটা কম থাকলেও প্রার্থীদের ব্যস্ততা, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা বিনিময়, ফুল দিয়ে ভোটারদের বরণ করে নেওয়া আর গণমাধ্যমের সরব উপস্থিতিতে এফডিসি যেন আজ রূপ নিয়েছে এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে বিএফডিসিতে শিল্পী সমিতির নতুন মেয়াদের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা কোনো বিরতিহীনভাবে চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৭৩ জন। তাঁদের মূল্যবান ভোটেই নির্ধারিত হবে আগামী দুই বছরের জন্য চলচ্চিত্র শিল্পীদের নতুন অভিভাবক ও নেতৃত্ব।
ভোটের দিন সকাল থেকেই মূল ফটকে ভোটারদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানাতে দেখা যায় বিভিন্ন পদের প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের। প্রধান ফটকেই ভোটারদের বরণ করে নিচ্ছিলেন কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদপ্রার্থী শিপন মিত্র ও চিত্রনায়িকা জলি। তাঁরা দুজনেই শিবা সানু–জয় চৌধুরী পরিষদের প্যানেল থেকে নির্বাচনে লড়ছেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে ভোট দিতে এফডিসিতে আসেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও চিকিৎসক ডা. এজাজুল ইসলাম। ভোটদান শেষে নির্বাচন নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে এই গুণী অভিনেতা বলেন, ‘অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন শেষ হোক, এটাই চাই। নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দিনশেষে আমরা সবাই এক পরিবারের সদস্য। ভোটের পর আমাদের মধ্যে যেন কোনো বিভেদ না থাকে।’
তবে ভোটের দিনে এফডিসির সবচেয়ে আলোচিত ও আকর্ষণীয় মুহূর্তটি তৈরি করেন অভিনেতা শম্ভু সরকার সঞ্জয়। সকালের দিকে হঠাৎ করেই ঢাকঢোল ও ব্যান্ড পার্টির বাদ্যি আর রাজকীয় পালকির এক বিশাল শোভাযাত্রা নিয়ে ভোটকেন্দ্রে হাজির হন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এফডিসির নজর কেড়ে নেন এই অভিনেতা। পরনে সোনালি জমকালো পোশাক, কাঁধে রাজকীয় শাল আর হাতে লাঠি নিয়ে পালকি থেকে নেমে শম্ভু যখন ভোটকেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁকে একনজর দেখতে ও ক্যামেরাবন্দি করতে শিল্পী, দর্শনার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীদের হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
ভোট দেওয়ার পর নিজের এমন ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় উপস্থিতির নেপথ্য ব্যাখ্যা দিয়ে শম্ভু সরকার সঞ্জয় হাসিমুখে বলেন, ‘শিল্পী সমিতির নির্বাচন মানেই আমাদের কাছে এক মহা উৎসব। এটি যেমন প্রার্থীদের জন্য আনন্দের, তেমনি ভোটারদের জন্যও দারুণ উৎসবের দিন। তাই প্রতিবারই এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে আমার মাথায় অনেক ইউনিক পরিকল্পনা থাকে। এর আগে কখনো ঘোড়ায় চড়ে, আবার কখনো সৈন্যসামন্তের বিশাল দল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এসেছি। আর এবার ভাবলাম একটু ভিন্ন কিছু করা যাক, তাই চলে এলাম পালকি নিয়ে।’
উল্লেখ্য, এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচনে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল একে অপরের মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যার মধ্যে একটি প্যানেলে সভাপতি পদে লড়ছেন মকবুল হোসেন আরমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন রুমানা ইসলাম মুক্তি। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে আছেন শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন তরুণ অভিনেতা জয় চৌধুরী। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ১০ জনেরও বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থীও এবারের নির্বাচনী মাঠে লড়াই করছেন।
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত মেয়াদের সফল সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজল এবার কোনো প্যানেল বা পদেই প্রার্থী হননি। ফলে শীর্ষ দুই পদে নতুন মুখ ও নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ৫৭৩ জন ভোটারের রায়ের ওপর ভিত্তি করে শিল্পী সমিতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
|