কমলগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রথম শ্রেণীতে পড়ুয়া সাত বছর বয়সী এক শিশুকে দোকানঘরের ভেতর ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত বৃদ্ধ চাঁন মিয়াকে (৬৫) প্রযুক্তির সহায়তায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বর্তমানে নির্যাতিত শিশুটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর পিতা বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মইদাইল গ্রামে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় মানিক মিয়ার মেয়ে। একই গ্রামের রশিদ মিয়ার মুদি দোকানের কর্মচারী চাঁন মিয়া চকলেট বা অন্য কিছুর প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে দোকানের ভেতরে ডেকে নেন। এরপর সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। শিশুটির চিৎকার ও ঘটনার জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বেগতিক দেখে অভিযুক্ত চাঁন মিয়া কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কমলগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশের একটি বিশেষ দল মাঠে নামে। কমলগঞ্জ থানার এসআই মোহাম্মদ আমির উদ্দিন, এসআই মিঠু রায় ও এএসআই হামিদুর রহমানের যৌথ তৎপরতায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মুন্সিবাজার এলাকা থেকেই পলাতক চাঁন মিয়াকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। অন্যদিকে, ঘটনার পরপরই শিশুটিকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পরিবার।
আক্রান্ত শিশুর পিতা মানিক মিয়া ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার মেয়েটি মাত্র প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। অবুঝ এই শিশুটার সাথে যে জঘন্য বর্বরতা করা হয়েছে, আমি তার কঠোর বিচার চাই। এমন নজিরবিহীন শাস্তি চাই, যা দেখে আর কোনো অপরাধী যেন এমন নোংরা কাজ করার সাহস না পায়।"
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও ক্ষমার অযোগ্য। খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম অভিযানে নামে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হই। এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে পুলিশ খোঁজখবর রাখছে।"
এআইএল/সকালবেলা
|