ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল হিজবুল্লাহ

প্রকাশ: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৩৯ অপরাহ্ণ
ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল হিজবুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত ইসরায়েল-লেবানন কাঠামো চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির প্রধান নাঈম কাসেম এই চুক্তিকে লেবাননের সার্বভৌমত্বের জন্য অপমানজনক এবং আত্মসমর্পণমূলক বলে মন্তব্য করেছেন।

শনিবার এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম বলেন, “দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে যুক্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি অভিযোগ করেন, লেবানন সরকার এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এটি বিতর্কিত ভূখণ্ডগুলো ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পথ প্রশস্ত করতে পারে। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিরোধ হিসেবে মাঠে থাকব এবং দখলদার শক্তিকে প্রতিহত করার সংগ্রাম অব্যাহত রাখব।”

এদিকে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইসরায়েলি অবস্থান বেশ কঠোর। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ দীর্ঘমেয়াদে অবস্থানের প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ করলেও বা না করলেও নিরাপদ সীমান্তের স্বার্থে ইসরায়েলি সেনাদের সেখানে থাকা প্রয়োজন হতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো সুস্পষ্ট বাধ্যবাধকতা নেই। চুক্তিতে মূলত দুই দেশের অস্তিত্বের অধিকার, যুদ্ধাবস্থার অবসান এবং সরাসরি আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা হিজবুল্লাহর ক্ষোভের প্রধান কারণ।

চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই শুক্রবার রাতে বৈরুতে হিজবুল্লাহ সমর্থকরা ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লেবাননের সেনাবাহিনী নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে এবং পাবলিক প্রসিকিউটর সহিংসতা ও দাঙ্গা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন