ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ভুচিচের জন্য এই ঘোষণা সার্বিয়ার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনিধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর। তৎকালীন সরকারি প্রকল্পগুলোর দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ শুরু করে, যা পরবর্তীতে ২০০০ সালের পর দেশটির সবচেয়ে বড় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভুচিচের এই পদত্যাগ মূলত একটি রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। যদিও তিনি পদত্যাগ করছেন, তবুও ধারণা করা হচ্ছে তিনি পরবর্তী সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং তার দল জয়ী হলে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন। ওয়ারশভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাদিভোয়ে গ্রুইচ মন্তব্য করেন, “এটি ভুচিচের রাজনৈতিক অবসরের ইঙ্গিত নয়, বরং তার নতুন কোনো পরিকল্পনা।”
ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রধান সাভো মানোজলোভিচ এই ঘোষণাকে তাদের আন্দোলনের বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ভুচিচ মূলত তার পতন ঠেকাতেই এই আগাম নির্বাচনের পথ বেছে নিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের প্রার্থী হিসেবে সার্বিয়াকে এখন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। এদিকে ভুচিচ তার ভাষণে বিরোধীদের প্রতি বিদেশি শক্তির মদদের অভিযোগ তুললেও, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক খাতে ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জান্নাত সকালবেলা
|