বাবার শেষ বিদায়েও কি আড়ালে থাকবেন মোজতবা খামেনি?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ
বাবার শেষ বিদায়েও কি আড়ালে থাকবেন মোজতবা খামেনি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ ও রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শেষ হতে চলেছে। তাঁর মরদেহ শেষকৃত্য ও দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে অবস্থিত বিখ্যাত ইমাম রেজা মাজারে, যা খামেনির জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। এর আগে গত রাতে ইরাকের পবিত্র কারবালা ও নাজাফ শহরে খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছে, খামেনির মরদেহ বহনকারী বিশেষ বিমানটি ইরাকের নাজাফ বিমানবন্দর থেকে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ইতিমধ্যে পৌঁছেছে।

তবে এই সুদীর্ঘ ও আবেগঘন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ঘিরে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও ইরানি সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি ডালপালা মেলছে, তা হলো—নিহত আয়াতুল্লাহর ছেলে এবং ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কি শেষ পর্যন্ত জনসমক্ষে উপস্থিত হবেন?

রহস্যময় অনুপস্থিতি ও গভীর সন্দেহ: ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদমর্যাদা ও দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোজতবা খামেনিকে একবারের জন্যও প্রকাশ্যে বা ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি। তাঁর এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি দেশের ভেতরে ও বাইরে তীব্র কৌতুহল এবং সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যে ভয়াবহ মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় তাঁর বাবা (আলি খামেনি), মা এবং স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হন, সেই একই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন। সেই চোটের কারণেই হয়তো তিনি এখনো বিছানা ছাড়তে পারেননি। তবে তাঁর দেখা না মেলায় এই মুহূর্তে রাষ্ট্র আসলে কারা পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

মোজতবার প্রথমবার জনসমক্ষে আসাটা ইরানের বর্তমান ভঙ্গুর ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মুহূর্ত হবে। মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তিনি সম্পূর্ণ আড়ালে রয়েছেন এবং কেবল তাঁর নামে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু লিখিত যুদ্ধংদেহী বিবৃতির মাধ্যমেই সামরিক বাহিনী ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

কোম শহরের বিশেষ সভা ও বিশ্লেষকদের মত: এদিকে ইরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার পবিত্র কোম শহরে একটি বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে, যা সরাসরি নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ ইমাম সৈয়দ মোজতবা খামেনির তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই ঘোষণার মাধ্যমে মোজতবা নিজেই সশরীরে সেখানে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। অনেক বিশ্লেষকের মতে, নতুন সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক জটিলতা থাকলে তাঁর পক্ষে হয়তো অন্য কোনো শীর্ষ ধর্মীয় নেতা বা সামরিক জেনারেল এই সভার নেতৃত্ব দেবেন।

তবে কোম শহরে তাঁর আকস্মিক উপস্থিতি একেবারে অসম্ভবও নয়। শিয়া ধর্মীয় শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এবং ইরানের দ্বিতীয় পবিত্রতম এই শহরেই মোজতবা নিজে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন। গত মঙ্গলবারও খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে এই কোম শহরের রাস্তায় লাখো মানুষের ভিড় জমেছিল, তবে সেবারও নতুন সর্বোচ্চ নেতা অনুপস্থিত ছিলেন। এখন দেখার বিষয়, আজ মাশহাদে বাবার শেষ বিদায়ে তিনি শেষ পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে এসে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটান কি না।

মন্তব্য করুন