কানাডা ও তুরস্কের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে কানাডা ও তুরস্ক। দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এই সম্ভাব্য ঐতিহাসিক চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও বেশি সুসংহত ও জোরদার করা।
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এর আগে দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদের মধ্যে প্রাথমিক ও অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা হলেও এবারই প্রথম টেবিল টক বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলো। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের কারিগরি দল (Technical Team) প্রথম দফার আলোচনার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নেবে এবং এই বাণিজ্যচুক্তির মূল পরিধি ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে।
প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে মূলত দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবার বাণিজ্য সহজীকরণ, শুল্কমুক্ত সুবিধা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, মহাকাশ গবেষণা এবং উন্নত প্রযুক্তির (Advanced Technology) মতো উদীয়মান খাতগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে প্রাধান্য পাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৩৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন ‘আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ব্যাংক’: এদিকে অর্থনৈতিক এই এফটিএ আলোচনার পাশাপাশি সামরিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রেও কানাডা ও তুরস্ক এক নতুন বৈশ্বিক জোটের অংশ হতে যাচ্ছে। তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো (NATO) শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চ থেকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি (Mark Carney) এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই এবং স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে কানাডার বিশেষ উদ্যোগে একটি নতুন আন্তর্জাতিক ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে। এই ব্যাংকের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক ডিফেন্স, সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ব্যাংক’ বা ডিএসআরবি (DSRB)।
প্রধানমন্ত্রী কার্নি জানান, এই ব্যাংকটি গঠনের জন্য ইতিমধ্যে ন্যাটোভুক্ত ৯টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রতিশ্রুতি ও স্বাক্ষর প্রদান করেছে। প্রাথমিকভাবে এই মেগা উদ্যোগে যুক্ত হওয়া দেশগুলো হলো—কানাডা, আলবেনিয়া, বেলজিয়াম, গ্রিস, লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ, রোমানিয়া, তুরস্ক এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ব্যাংকটির স্থায়ী সদর দফতর (Headquarters) স্থাপন করা হবে কানাডায়। এই ব্যাংকের প্রধান কাজ হবে মিত্র দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রকল্পে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া, বড় ঋণের গ্যারান্টি হওয়া এবং সামরিক শিল্প খাতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করা। মূল লক্ষ্য হলো—ইউরোপ ও আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা অবকাঠামোকে বুস্ট করা। ব্যাংকটি প্রায় ১৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ১৩,৪০০ কোটি ডলার) একটি বিশাল তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে চায়।
|