পাল্টাপাল্টি হামলার মাঝেই আজ মাশহাদে খামেনির দাফন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী ও তীব্র পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার মাঝেই আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দাফন করা হচ্ছে ইরানের সাবেক শীর্ষ ধর্মীয় ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। ইরাকের কারবালা ও নাজাফ শহরে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ এখন নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁর জন্ম শহর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদে। সেখানে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারে আজ ঐতিহাসিক এই দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, যেখানে অংশ নিতে কয়েক লাখ শোকার্ত মানুষের ঢল নেমেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইরাক থেকে খামেনির মরদেহ ইরানে স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটিতে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে। এর মূল কারণ, গত বুধবার রাতে ইরানের ওপর চালানো ব্যাপক মার্কিন বিমান হামলায় তেহরান থেকে মাশহাদে যাওয়ার প্রধান যাত্রীবাহী রেলপথটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এই রুটে সাময়িকভাবে সমস্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে ইরান কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে রুটটি দ্রুত মেরামতের জন্য ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে বিশেষ কারিগরি ও রেল প্রকৌশলী দল পাঠানো হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এই রুটটি পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। এদিকে ট্রেনে যাওয়ার পথে মাঝরাস্তায় আটকে পড়া হাজার হাজার শোকার্ত যাত্রীদের মাশহাদে পৌঁছানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বিকল্প সড়ক পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেল রুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও যাতায়াত বিঘ্নিত হওয়ার কারণে আজ সকাল ৮টায় মাশহাদে খামেনির দাফনের আগের জানাজা ও বিশাল শোকমিছিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে আজ দুপুর ২টায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, ইরাকের পবিত্র নাজাফ শহরে খামেনির মরদেহ বিখ্যাত ইমাম আলী (আ.)-এর মাজারে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে এক নজিরবিহীন ঐতিহাসিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শিয়া সম্প্রদায়ের এই পবিত্রতম স্থানে খামেনির শেষ জানাজায় প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের এক বিশাল সমাগম ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে মেহর নিউজ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের এই সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন-ইসরায়েলি এক বিধ্বংসী বিমান হামলায় আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছিলেন। মাঝে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর হলেও, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও মার্কিন সেন্টকমের পাল্টা অভিযানের কারণে গতকাল থেকে নতুন করে সংঘাত ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত দুই দিনে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় ইরানের অন্তত পাঁচটি প্রদেশে কমপক্ষে ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক কর্মী নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৭৮ জন। এই চরম যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই আজ মাশহাদে কড়া নিরাপত্তায় সমাহিত করা হচ্ছে খামেনিকে।
|