হালান্ডকে থামানোর উপায় জানালেন ডেস ওয়াকার
ক্রীড়া ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন রূপ নিয়েছে এক রোমাঞ্চকর ও শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায়ে। আর মাত্র কয়েকদিন পরই টুর্নামেন্টের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে সেমিফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। তবে এই বিগ ম্যাচের আগে ইংলিশ ম্যানেজমেন্ট ও ডিফেন্ডারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছেন একজনই— তিনি হলেন নরওয়ের অতিমানবীয় স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড। যেকোনো রক্ষণভাগকে একাই গুঁড়িয়ে দিতে ওস্তাদ এই গোলমেশিনকে কীভাবে থামানো যায়, সেই বহুল আলোচিত প্রশ্নের এক চমৎকার ও বাস্তবসম্মত উত্তর দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক রক্ষণের দেয়াল ও কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ডেস ওয়াকার।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) অনলাইন সংস্করণে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডেস ওয়াকার কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের সাফল্যের মূল মন্ত্রগুলো তুলে ধরেন।
হালান্ডের খেলার ধরণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাবেক এই কিংবদন্তি ডিফেন্ডার বলেন, “হালান্ড এমন একজন স্ট্রাইকার, যাকে আপনি হয়তো পুরো ম্যাচের ৮০ বা ৮৫ মিনিট পুরোপুরি আটকে রাখতে পারবেন। কিন্তু আপনি একটু অসতর্ক হলেই বা এক সেকেন্ডের জন্য মনোযোগ হারালেই তিনি সেই ছোট্ট সুযোগটি লুফে নেবেন এবং ম্যাচের ভাগ্য সম্পূর্ণ বদলে দেবেন। তাই হালান্ডের বিপক্ষে খেলার সবচেয়ে বড় ও প্রধান শর্ত হলো— রেফারি শেষ বাঁশি না বাজানো পর্যন্ত মাঠের মনোযোগ শতভাগ ধরে রাখা।”
ডেস ওয়াকারের মতে, বর্তমান ফুটবলে শুধু একজন ডিফেন্ডার বা সেন্ট্রাল ব্যাকের পক্ষে হালান্ডের মতো দানবীয় শারীরিক শক্তি ও গতির স্ট্রাইকারকে একা সামলানো মানবিকভাবে অসম্ভব। এর জন্য পুরো দলকে একসাথে রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি ইংলিশ স্কোয়াডকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, রক্ষণের প্রতিটি খেলোয়াড়কে নিজেদের পজিশনে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। হালান্ড যখনই বল পাবেন, তাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক চাপে রাখতে হবে এবং ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে সুযোগ পেলেই তার শট নেওয়ার সামনে গিয়ে মানবপ্রাচীর বা বাধা তৈরি করতে হবে।
ইংল্যান্ড দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে ওয়াকার আরও যোগ করেন, “আমরা শেষ ষোলোর (Round of 16) ম্যাচে দেখেছি, একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পরও ইংল্যান্ড যেভাবে অসাধারণ দলীয় ঐক্য, বোঝাপড়া এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে কোনো গোল করতে দেয়নি— সেই একই অদম্য মানসিকতা ও স্পিরিট নরওয়ের বিপক্ষেও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।”
সাবেক এই ফুটবল তারকার ভাষায়, বিশ্বকাপের মতো এত বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ আসরে অনেক বিশ্বমানের ফুটবলার থাকেন। তাঁরা হয়তো পুরো ম্যাচ জুড়ে মাঠে খুব একটা চোখে পড়েন না বা নিষ্প্রভ থাকেন, কিন্তু ম্যাচের একটি মাত্র বিশেষ মুহূর্তেই পুরো চিত্র উল্টে দিতে পারেন। তাই হালান্ডকে বোতলবন্দী করার পাশাপাশি মাঠের প্রতিটি ট্যাকল, পাস ও ওয়ান-টু-ওয়ান লড়াইয়ে জয়ী হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি মনে করেন, কোয়ার্টার ফাইনালের এই মেগা ম্যাচটি শুধু এককভাবে হালান্ডকে ঘিরেই নয়। ইংল্যান্ডকে যদি সেমিফাইনালে যেতে হয়, তবে পুরো মাঠ জুড়ে নিজেদের সেরা ফুটবলটা খেলতে হবে। তবে ইংলিশ শিবিরে যদি দলীয় ঐক্য, কঠোর শৃঙ্খলা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা থাকে, তবে নরওয়েকে হারিয়ে বিশ্বজয়ের পথ সুগম করা সম্ভব।
|