খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা

প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ণ
খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা

মোঃ ইউসুফ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় বাঁধের একটি অংশ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল মিয়া জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁধের একটি অংশ হঠাৎ ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বন্যার পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠে গেছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে শুরু করেন। আতঙ্কে অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে বন্যার পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহেরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জরুরি তথ্য সংগ্রহ ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখায় একটি ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও গবাদিপশুর জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়দুল হক বলেন, “বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা উঠছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।” তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, উজান থেকে পানি নামা অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন