চট্টগ্রামের দুর্যোগ মোকাবেলায় ১০ পদক্ষেপ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের দুর্যোগ মোকাবেলায় ১০ পদক্ষেপ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক ঃ গত কয়েক দিনের টানা রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় সৃষ্ট চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশিত ১০টি বিশেষ ও জরুরি পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ’ শিরোনামে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেন।

মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, “সংকটের এই কঠিন সময়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত ও বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন কার্যকর ও মানবতাবাদী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।”

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্র থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি ও মনিটরিং করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার অভিযান ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে (টিম ওয়ার্ক হিসেবে) কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ও অনুমোদিত ১০টি প্রধান উদ্যোগ হলো:

  • ১. সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও যোগাযোগ: প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিকভাবে দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে মনিটরিং করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিতভাবে মাঠপর্যায়ের ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে সরাসরি যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

  • ২. ১,০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু: চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত ও প্লাবিত এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি সুসজ্জিত আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

  • ৩. কোটি টাকার বিশেষ জরুরি বরাদ্দ: জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই ৫টি দুর্গত জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গতদের কাছে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

  • ৪. তিন বেলা খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা: সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্র ও দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষ শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা মানসম্মত রান্না করা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • ৫. সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি: জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বেগবান করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (পুলিশ, আনসার, কোস্টগার্ড) পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

  • ৬. জনপ্রতিনিধিদের মাঠে অবস্থান: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা প্লাবিত অঞ্চলসমূহ সার্বক্ষণিক পরিদর্শন করছেন এবং স্বশরীরে দুর্গত এলাকায় অবস্থান নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

  • ৭. যৌথ মানবিক প্রচেষ্টা: দুর্গত মানুষের সেবায় বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো দেশজুড়ে মাঠে নেমেছে। একই সাথে সরকারের সিভিল প্রশাসন, বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং কোস্টগার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে সমন্বিত টাস্কফোর্স হিসেবে কাজ করছে।

  • ৮. এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত: ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও বিপজ্জনক ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় দুর্গত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

  • ৯. ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন: এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত ও হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করছেন।

  • ১০. রেললাইন উঁচু করা ও স্থায়ী আবাসন: টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ‘চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের’ জলাবদ্ধতার স্থায়ী ঝুঁকি ও টেকনিক্যাল ত্রুটি কমাতে পুরো রেললাইনটি ৫ ফুট উঁচু করার মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের অফিশিয়াল দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ধসের স্থায়ী ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থানে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি সরকারের দ্রুত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত, সর্বোচ্চ মানবিক প্রয়াস ও সবার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুতই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মহা সংকটে গভীর ভালোবাসা, দেশপ্রেম ও দায়বদ্ধতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের পাশে আছেন এবং জনগণের এই নতুন সরকার সবসময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।”

মন্তব্য করুন