বিশ্বকাপে রেকর্ডের পর রেকর্ড এমবাপ্পের

প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপে রেকর্ডের পর রেকর্ড এমবাপ্পের

স্পোর্টস ডেস্ক: তিনি মাঠে নামা মানেই গতির ঝড়, ডিফেন্ডারদের বুকে কাঁপন আর গোলপোস্টের জাল চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া। চলতি ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে একের পর এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড ভেঙে ফুটবল ইতিহাস নতুন করে ও নিজের মতো করে লিখছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে মরক্কোর বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের ২-০ ব্যবধানের জয়ে গোল করে তিনি বেশ কয়েকটি অনন্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড যেন এখন কেবল মাঠেই খেলছেন না, বরং ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ চূড়ায় ওঠার জন্য আকাশে উঁকি মারছেন।

মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের এই ব্লকবাস্টার ম্যাচের শুরুতে একটি পেনাল্টি মিস করে ভক্তদের কিছুটা হতাশ করেছিলেন এমবাপ্পে। তবে সেই হতাশা দ্বিতীয় অর্ধে মাঠের ভেতর টিকতে দেননি তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের একটি দর্শনীয় ও চোখধাঁধানো স্ট্রাইকে তিনি পেনাল্টি ছাড়া গোল করার বিশ্বরেকর্ডে ফুটবল মহাজাদুকর লিওনেল মেসিকে স্পর্শ করেছেন। বর্তমানে বিশ্বকাপে পেনাল্টি বা স্পট-কিক ছাড়া ১৭টি গোল নিয়ে যৌথভাবে মগডালে অবস্থান করছেন মেসি ও এমবাপ্পে।

একই সাথে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২০-এ নিয়ে গেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ফলে আর মাত্র ১টি গোল করলেই তিনি মেসিকে সম্পূর্ণ ছাড়িয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা ও সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষস্থানে আরোহণ করবেন।

চলতি ২০২৬ আসরে এমবাপ্পের রেকর্ড ভাঙার এই হিংস্র খেলা শুরু হয়েছিল সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচেই। সেই ম্যাচে জাল খুঁজে নিয়ে তিনি সাবেক স্ট্রাইকার অলিভিয়ে জিরুকে (৫৭ গোল) টপকে ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রাজমুকুট নিজের মাথায় পরে নেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা এখন ৬৪।

সেনেগালের বিপক্ষেই তিনি আরেকটি অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েন। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে কিংবদন্তি জ্যঁ ফন্তেইনের গড়া ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের যে ৬৮ বছরের পুরনো রেকর্ড ছিল, তা ভেঙে চুরমার করে দেন এমবাপ্পে। চলতি টুর্নামেন্টে আরও ৬টি গোল যোগ করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২০-এ উন্নীত করেছেন এই ফরাসি সুপারস্টার।

গ্রুপ পর্বের পাশাপাশি নকআউট পর্বেও এমবাপ্পের দাপট ছিল চোখ ধাঁধানো। সুইডেনের বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার বিশ্বরেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেন। এই তালিকায় তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও ও লিওনিদাসের মতো মহাতারকাদের ওপরে অবস্থান করছেন। এরপর কোয়ার্টারের ঠিক আগে প্যারাগুয়ে এবং এবার মরক্কোর বিপক্ষেও জাল খুঁজে নিয়ে নকআউট পর্বে নিজের গোলসংখ্যাকে ১২-তে নিয়ে গেছেন এই গোলমেশিন।

মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে উসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত গোলে চমৎকার এক অ্যাসিস্ট করে আরেকটি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন এমবাপ্পে। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি সরাসরি গোলে (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) অবদান রাখার অবিশ্বাস্য ও মহাজাগতিক রেকর্ড গড়লেন তিনি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ২ অ্যাসিস্টের পর এই বিশ্বকাপেও তিনি সেই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সকে ছাড়িয়ে গেলেন।

এছাড়া দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডেও এখন সাবেক মহানায়ক ও গোলরক্ষক হুগো লরিসের পাশে বসেছেন তিনি। লরিস ও এমবাপ্পে উভয়েই এখন ২০টি করে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন। তবে লরিসকে টপকে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই তালিকায় এককভাবে শীর্ষে যাওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ এমবাপ্পের সামনে রয়েছে আগামী সপ্তাহের হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচেই।

মন্তব্য করুন