আমির খানের স্ত্রী গৌরীর বিয়ের আংটি; মিলিয়নে একটা
বিনোদন ডেস্ক: তিনি বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’। তাই জীবনের যেকোনো বিশেষ আয়োজন যে নিখুঁত এবং অনন্য হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। গত ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের বান্দ্রার নিজের বাসায় অত্যন্ত ঘরোয়া ও পারিবারিক আবহে বান্ধবী গৌরী স্প্র্যাটের সাথে তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন বলিউড সুপারস্টার আমির খান। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আমিরের আগের দুই সংসারের তিন সন্তান এবং গৌরী স্প্র্যাটের আগের সংসারের সন্তান সহ উপস্থিত ছিলেন আশুতোষ গোয়ারিকর ও রাজকুমার হিরানীর মতো তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। তবে এই সমস্ত ঘরোয়া আয়োজনের মাঝে সব কৌতুহল ও আলো গিয়ে কেড়েছে কনে গৌরীর হাতের অনামিকায় শোভা পাওয়া বিশেষ বিয়ের আংটিটি। এমন আংটি পুরো পৃথিবীতে আর একটিও নেই।
লাক্সারি জুয়েলারি ব্র্যান্ড 'কুইন' (Kween)-এর ডিজাইন করা এই আংটিটির কেন্দ্রে বসানো হয়েছে আফ্রিকার মাদাগাস্কার থেকে আনা একটি অতি-বিরল প্রাকৃতিক রুবি বা চুনী পাথর। 'কুইন'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও অমিত কুমার আংটিটির নির্মাণ প্রক্রিয়ার রুদ্ধশ্বাস খুঁটিনাটি প্রকাশ করেছেন।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, আফ্রিকার মাদাগাস্কারের খনি থেকে এই বিশেষ ও খাঁটি রুবি পাথরটি খুঁজে সংগ্রহ করতেই তাঁদের জুয়েলারি দলের অভিজ্ঞ রত্নবিদদের তিন মাসেরও বেশি সময় লেগেছে। অমিত কুমারের ভাষায়, “মাদাগাস্কারের এই বিশেষ রুবি মূলত মিলিয়ন অর্থাৎ ১০ লাখে মাত্র একটা পাওয়া যায়। বিরল কিছু বোঝাতে আগে যেমন বাংলা বা হিন্দিতে বলা হতো ‘লাখে একটা’, এই আংটির ক্ষেত্রে এখন থেকে বলতে হবে ‘মিলিয়নে একটা’।”
অমিত কুমার আরও জানান, বিরল রুবিটি সংগ্রহ করার পর তাঁরা সম্পূর্ণ বিশেষ ও কাস্টমাইজড ডিজাইনে আংটিটি তৈরির কাজ শুরু করেন। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগেও আংটিটি নির্মাণে কোনো প্রকার আধুনিক যন্ত্রের ছোঁয়া লাগতে দেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ সনাতন ও রাজকীয় পদ্ধতিতে ১৩১ জন অত্যন্ত দক্ষ কারিগরের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় আংটিটি এই রাজকীয় রূপ পেয়েছে। রুবিটি ধরে রাখতে একটি বিশেষ সেটিং বা ফ্রেম তৈরি করা হয়। ডিজাইন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে নিখুঁতভাবে পাথর বসানো এবং চূড়ান্ত ফিনিশিং পর্যন্ত এই ১৩১ জন কর্মীর ২৫৬ ঘণ্টারও বেশি নিবিড় সময় লেগেছে।
জুয়েলারি ব্র্যান্ডটির মূল উদ্দেশ্যই ছিল একটি সাধারণ ও গতানুগতিক ওয়েডিং ব্যান্ডের পরিবর্তে একটি ঐতিহ্যবাহী বা বংশানুক্রমিক মূল্যবান সম্পদ (Heirloom) তৈরি করা, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমির খানের পরিবারে আভিজাত্য ছড়াবে।
ঐতিহ্যবাহী সাধারণ রত্নখচিত আংটিগুলোর মতো এটি কোনো মেটাল ব্যান্ডের ওপর সরাসরি আঠা বা ক্লিপ দিয়ে বসানো নয়। বরং মূল রুবিটিকে একটি রাজকীয় মুকুটের মতো নিখুঁত সোনার কাঠামোর ভেতরে সুরক্ষিতভাবে বসানো হয়েছে। রুবিটিকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ‘ক্যাবশন কাট’ (Cabochon Cut), যা কোনো খাজকাটা ফিনিশের বদলে পাথরটিকে একটি মসৃণ, নিখুঁত ও গম্বুজাকৃতির পলিশ দিয়েছে। এই বিশেষ কাটের কারণে চুনী পাথরের গাঢ় লাল রঙটি আরও চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে এবং এটি থেকে একটি অলৌকিক উজ্জ্বল আভা নির্গত হয়।
ডিজাইনের আরও গভীরে গিয়ে অমিত কুমার জানান, চুনিটিকে একটি খাঁজকাটা সোনার গ্যালারি ধরে রেখেছে, যা ওপরের দিকে মুকুটের মতো সূক্ষ্ম চূড়ায় রূপ নেওয়ার পর নিখুঁত কারুকাজে মূল ব্যান্ডের সাথে মিশে গেছে। আর এই মূল রুবির চারপাশকে রাজকীয় আবহ দিতে খচিত বা বৃত্তাকারে বসানো হয়েছে ৪০টি আসল ও অতি-মূল্যবান প্রাকৃতিক হীরা। এই প্রাচীন নির্মাণ শৈলীটি ঐতিহাসিকভাবে রাজপরিবারের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এবং রাজ্যাভিষেকের রাজকীয় অলঙ্কারের সাথে জড়িত।
আংটিটির বাজারমূল্য বা দাম সম্পর্কে জুয়েলারি ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রুবি সংগ্রহ থেকে শুরু করে ২৫৬ ঘণ্টার কারিগরি পরিশ্রমে যা তৈরি হয়েছে, তা আসলে বৈষয়িক দিক থেকে সম্পূর্ণ অমূল্য। যেহেতু এটি একটি রাজকীয় পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, তাই এর বাজারমূল্য কোনো কাগুজে টাকায় যাচাই করা সম্ভব নয়।
|