টাইফুন বাভির আঘাতের প্রস্তুতিতে চীন ও তাইওয়ান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রকৃতির একের পর এক রুদ্ররূপ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চরম চাবুক যেন আছড়ে পড়ছে পূর্ব এশিয়ায়। দক্ষিণ চীন সাগরে সৃষ্ট অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ‘টাইফুন বাভি’ (Typhoon Bavi)-র সরাসরি আঘাতের আশঙ্কায় চীন এবং স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানে ব্যাপক ও যুদ্ধকালীন ক্ষণগণনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য এই প্রলয়ংকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার মৎস্যজীবী ও সাধারণ জেলেরা তাঁদের নৌকা ও ট্রলার নিয়ে ইতিমধ্যেই নিরাপদ নোঙর বা বন্দরে আশ্রয় নিয়েছেন।
উপকূলীয় লোকালয়গুলোর বাসিন্দারা তীব্র জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার পানি লোকালয়ে ঢোকা ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনের সরবরাহকৃত বালুর বস্তা সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, ঝড়ের তোড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি এড়াতে কৃষকেরা মাঠ থেকে আধাপাকা ও পাকা ফসল দ্রুত ঘরে তোলার জন্য দিনরাত এক করে কাজ করছেন।
আঞ্চলিক আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা—টাইফুন বাভি গত কয়েক বছরের মধ্যে এই নির্দিষ্ট এশীয় অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ও দানবীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়গুলোর (Tropical Cyclones) একটি হতে যাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বাভি যখন তাইওয়ানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের দিকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছে, ঠিক তখনই দক্ষিণ চীনে মাত্র কয়েকদিন আগে আঘাত হানা অপর একটি শক্তিশালী টাইফুন ‘মায়সাক’-এর লণ্ডভণ্ড করে দেওয়া ধ্বংসযজ্ঞের পর উদ্ধার ও সন্ধান অভিযান এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আঘাত হানা সেই মায়সাকের প্রভাবে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও বাঁধ ভাঙার ঘটনায় অন্তত ৩৯ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও বেশ কয়েকজন বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যানুযায়ী, টাইফুনের সম্ভাব্য গতিপথের মুখে থাকা তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান মৎস্য আহরণ ও মাছ ধরার শহর ‘সুয়াও’ (Suao)-তে শত শত ছোট-বড় বাণিজ্যিক মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার সমুদ্রের মাঝখান থেকে ফিরে এসে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বন্দরে গাদাগাদি করে ভিড় করেছে।
সাগরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিন মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি বড় মাছ ধরার নৌকার অভিজ্ঞ ফিশিং ক্যাপ্টেন চেন মিং-হুই বলেন, “বাইরে এখন আপাতদৃষ্টিতে আবহাওয়া খুব শান্ত ও মনোরম মনে হলেও সাগরের ভেতরের পরিস্থিতি খুব দ্রুত এবং মারাত্মকভাবে বদলে যেতে পারে।”
তিনি উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেন, “এখন ওপরের আকাশ পরিষ্কার এবং রোদ দেখে কেউ যেন ভুল সিদ্ধান্ত না নেন। এ ধরনের টাইফুন বা ট্রপিক্যাল স্টর্ম অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও ধোঁকাবাজ হতে পারে। এর আগের ঝড়ে আমাদের চোখের সামনে অনেক মজবুত নৌকা সাগরে ডুবে গিয়েছিল এবং পুরো সুয়াও শহর কোমর পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। তাই আমরা এবার কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।”
চীন ও তাইওয়ান—উভয় দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ইতিমধ্যে উপকূলীয় ও নিচু অঞ্চলের লাখো মানুষকে দ্রুত সাইক্লোন শেল্টারে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং জরুরি বিভাগের কর্মীদের হাই-অ্যালার্টে রাখা হয়েছে।
|