‘আমেরিকার চাকরি বিদেশি প্রতারকদের জন্য নয়’: জেডি ভ্যান্স
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ ও উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে কাজ করার যে জনপ্রিয় ভিসা কর্মসূচি, তা নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগে ব্যাপক তদন্তে নেমেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিশেষ করে এইচ-১বি (H-1B) এবং পার্ম (PERM) ভিসা ক্যাটাগরির অপব্যবহার ঠেকাতে মার্কিন শ্রম বিভাগ এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই কঠোর তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, “আমেরিকান চাকরিগুলো সবার আগে আমেরিকান কর্মীদেরই পাওয়া উচিত, কোনো বিদেশি প্রতারকদের নয়।”
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে কালের কণ্ঠ ডেস্ক।
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এইচ-১বি এবং পার্ম ভিসা ক্যাটাগরির আওতায় প্রতি বছর বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার দক্ষ আইটি ও প্রকৌশল পেশাজীবীদের সাময়িকভাবে নিয়োগ দেয়। তবে মার্কিন শ্রম বিভাগের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে যে—দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণীর মধ্যস্বত্বভোগী এজেন্সি ও কোম্পানি এই আন্তর্জাতিক ভিসা কর্মসূচির চরম অপব্যবহার করছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—নকল নথিপত্রের মাধ্যমে অদক্ষ পেশাজীবীদের দক্ষ সাজিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা, প্রকৃত যোগ্য আমেরিকানদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আনার পর ওই সমস্ত বিদেশি পেশাজীবীদের চুক্তি অনুযায়ী ন্যায্য বেতন না দিয়ে অবৈধভাবে বেতন কেটে রাখা বা কম মজুরি দেওয়া। এমনকি এর আড়ালে মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধের সিন্ডিকেটও সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই বিশাল শ্রম কেলেঙ্কারি ও জালিয়াতি রুখতে মার্কিন শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানিয়েছেন, বিদেশি কর্মী ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার এবং সন্দেহভাজন মানবপাচারের বিষয়ে একটি বড় আকারের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাঁর কার্যালয় ইতিমধ্যে অভিযুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সমন (Legal Summons) জারি করা শুরু করেছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা এই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে অত্যন্ত জোরালো ও জোড়ালো আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস—যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো ইন্সপেক্টর জেনারেল বা কোনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদেশি শ্রম জালিয়াতি এবং ভিসা অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সম্ভবত এটিই সবচেয়ে বড় ও আগ্রাসী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই মারমুখী ও কড়া অবস্থান মূলত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (America First) নীতিরই অংশ। এই তদন্তের ফলে আগামী দিনগুলোতে বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (IT) খাতে বিদেশি কর্মীদের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও অনেক বেশি কঠিন ও কঠোর স্ক্রুটিনির (যাচাই-বাছাই) মুখোমুখি হতে পারে।
|