চট্টগ্রামে পাহাড়ধস ও বন্যায় ৩০ জনের মৃত্যু; শোক প্রকাশ এনসিপির

প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে পাহাড়ধস ও বন্যায় ৩০ জনের মৃত্যু; শোক প্রকাশ এনসিপির

জাতীয় ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর লঘুচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগে টানা চারদিনের রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা, ভয়াবহ পাহাড়ধস ও তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে শিশুসহ অন্তত ৩০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই নজিরবিহীন ও হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে গভীর শোক, দুঃখ এবং তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই শোকবার্তা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে একদিনেই সাতটি নিস্পাপ শিশুর অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে দলটি।

এনসিপি তাদের বিবৃতিতে বর্তমান মাঠপর্যায়ের চিত্র তুলে ধরে জানায়, টানা ভারী বর্ষণের ফলে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে রয়েছে। স্মরণকালের এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর সাধারণ জনজীবন সম্পূর্ণ স্তবক ও স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি বন্যার পানি রেললাইনের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং ট্র্যাক ডুবে থাকায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

এছাড়াও বৃষ্টির কারণে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের জেরে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির প্রধান সড়কে প্রায় ৪৫০ জন পর্যটক আটকা পড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। এনসিপি অবিলম্বে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতি পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে স্বদেশে বা নিজ গন্তব্যে প্রত্যাবর্তনে দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে দেশের আবহাওয়া বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, চলতি আষাঢ় মাসের প্রথম ২০ দিন দেশজুড়ে প্রায় বৃষ্টিহীন থাকার পর সাগরে আকস্মিক লঘুচাপের কারণে এ ধরনের তীব্র, অতিভারী ও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) একটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও বিপজ্জনক সংকেত। তবুও প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামের এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের মতো মানবিক বিপর্যয় রোধে প্রশাসনের যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি ও টেকসই পরিকল্পনার অভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি সাফ জানায়, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে রক্ষা করতে হলে শুধু সাময়িক ও লোকদেখানো ত্রাণ বিতরণ করলেই সমাধান হবে না। নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা নিতে হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোকে স্থায়ী সরকারি পুনর্বাসনের আওতায় এনে পাহাড়ধসের মতো মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে নাগরিকদের জীবন রক্ষা করা বর্তমান সরকারের প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। জনস্বার্থে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরকারকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার জোর আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

মন্তব্য করুন