দিল্লিতে প্রবল বর্ষণে ভবনধস; ৪ জনের মৃত্যু, রেড অ্যালার্ট জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকরী বর্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশটির রাজধানী নতুন দিল্লি। টানা বেশ কয়েকদিনের প্রবল ও অবিরাম বর্ষণের জেরে দিল্লির একটি জনাকীর্ণ এলাকায় একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভারতের অন্যতম শীর্ষ সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) এই প্রাণহানির খবরটি নিশ্চিত করেছে।
উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনার পরপরই দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে সুদীর্ঘ ও রুদ্ধশ্বাস তল্লাশির পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজনকে অলৌকিকভাবে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। আহত ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ভবনের ভেতরে আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিতে এখনও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
এদিকে ভবনধসের এই মর্মান্তিক ঘটনার পরপরই ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (IMD) নতুন দিল্লি এবং এর পার্শ্ববর্তী হরিয়ানা রাজ্যের বেশ কিছু অঞ্চলের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ (Red Alert) জারি করেছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় এই অঞ্চলগুলোতে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত এবং বজ্রঝড় হতে পারে, যা চলমান পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।
টানা বৃষ্টির কারণে দিল্লির একাংশ ইতিমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে কোমর সমান জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় চরম ট্রাফিক জ্যাম ও যাতায়াত বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (DIAL) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিমানযাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছে।
চলতি মৌসুমে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসজনিত কারণে ধারাবাহিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, দিল্লির এই ভবনধসটি সেই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
কেরালা: দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় পাহাড়ি কেরালা রাজ্যের ওয়েনাড (Wayanad) জেলায় গত মঙ্গলবার এক ভয়াবহ পাহাড়ি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশাল মাটির স্তূপ ও পাথর ধসে পড়ে সেখানে অন্তত চারজন গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
মহারাষ্ট্র: পশ্চিমাঞ্চলীয় এই রাজ্যে মৌসুমী বৃষ্টির তাণ্ডব সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে। রাজ্যের এক সিনিয়র মন্ত্রী আজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মুম্বাইসহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জেলায় বন্যা, দেয়াল ধস ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো বৃষ্টিজনিত পৃথক পৃথক ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পুনে: মুম্বাইয়ের পার্শ্ববর্তী বাণিজ্যিক শহর পুনেতে (Pune) একটি বড় বর্জ্য শোধনাগারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জমিয়ে রাখা আবর্জনার একটি বিশাল পাহাড় ধসে পড়েছে। সেখানে ক্ষয়ক্ষতি ও সম্ভাব্য হতাহতের তথ্য অনুসন্ধানে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। সব মিলিয়ে পুরো ভারতজুড়ে মৌসুমী বায়ুর এই প্রলয় রূপ জনজীবনকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিয়েছে।
|