ইরানে মার্কিন হামলা; ৯০টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি সেন্টকমের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
ইরানে মার্কিন হামলা; ৯০টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি সেন্টকমের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি এক রক্তক্ষয়ী ও সর্বাত্মক রূপ ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তাদের বিমান ও নৌবাহিনী ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে আরও এক দফা অত্যন্ত শক্তিশালী ও নিখুঁত বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে সেন্টকম নিশ্চিত করেছে যে, বুধবার গভীর রাতে চালানো সর্বশেষ এই অভিযানে ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনে তা ধ্বংস করা হয়েছে।

হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি অপারেশনাল ভিডিও চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের বেশ কয়েকটি অজ্ঞাত সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইড বোমার নিখুঁত বিস্ফোরণ ঘটছে এবং সেখান থেকে বিধ্বংসী আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়ে যাচ্ছে। ইরানি গণমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস, চাবাহার ও কোনারাক এলাকায় তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

উপকূলীয় সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি: সেন্টকমের প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ফাইটার জেট ও বোমারু বিমান থেকে চালানো এবারের হামলায় মূলত ইরানের দক্ষিণ উপকূলের নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ধ্বংস হওয়া ৯০টি লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে—অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম), উপকূলীয় রাডার ও নজরদারি সরঞ্জাম, আইআরজিসি-র ব্যাস্টিক মিসাইল ও আত্মঘাতী ড্রোন মজুত রাখার গোপন মাটির নিচের আস্তানা, নৌবাহিনীর কমান্ড নেটওয়ার্ক এবং সামরিক রসদ সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছে, “এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের ওপর ইরানের অন্যায় ও বারবার চালানো ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতাকে চিরতরে স্তিমিত ও নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া।”

ট্রাম্পের ঘোষণা: ‘যুদ্ধবিরতি শেষ’

এর আগে গত ৭ জুলাইও (মঙ্গলবার) ইরানি উপকূলে বড় ধরনের প্রথম দফার হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। সেই অভিযানে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি সামরিক স্পীডবোটসহ মোট ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করার দাবি করেছিল সেন্টকম। তার ঠিক দুদিনের মাথায় বুধবার রাতে আবারও এই নজিরবিহীন জোরালো হামলার ঘটনা ঘটল।

এই সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়ে যায় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে ঘোষণা দেন যে, ইরানের সাথে হওয়া সাম্প্রতিক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা চুক্তিটি (MoU) এখন থেকে সম্পূর্ণ ‘শেষ’ বা বাতিল করা হলো। ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক তেলের ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে উস্কানিমূলক হামলা বন্ধ না করে, তবে সামনে তাদের জন্য আরও ‘ভয়ানক পরিণতি’ অপেক্ষা করছে।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আগ্রাসী শত্রু আমেরিকা ও তার দোসরদের এই কাপুরুষোচিত হামলার জন্য কঠোর শাস্তি পেতে হবে।” এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও মেগা বিস্ফোরণের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ঠেকাতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল জরুরি কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে।

মন্তব্য করুন