আলিবাবাকে ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ আখ্যা দিয়ে কালো তালিকাভুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের প্রযুক্তি ও ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবাকে ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ আখ্যা দিয়ে কালো তালিকাভুক্ত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন)। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল মামলা করেছে আলিবাবা। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসে ফেডারেল আদালতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
গত ৮ জুন পেন্টাগন কথিত ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’র তালিকাটি সম্প্রসারিত করে মোট ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার পর এই অভিযোগপত্র দাখিল করে আলিবাবা। বেইজিং তার দেশের বেসরকারি খাতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে—এমন আশঙ্কার জায়গা থেকেই ওয়াশিংটন এই ব্ল্যাকলিস্ট বড় করছে। পেন্টাগনের দাবি, চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আলিবাবা দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প ঘাঁটির একটি ‘সামরিক-বেসামরিক ফিউশন অবদানকারী’ হিসেবে কাজ করছে।
পেন্টাগনের এই দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে আলিবাবা। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘এই সিদ্ধান্তের কোনো বাস্তবিক বা আইনি ভিত্তি নেই। আলিবাবা একটি স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত হয়, যাদের কারোরই কোনো সামরিক সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাদের পণ্য ও পরিষেবাগুলো মূলত খুচরা ব্যবসা, লজিস্টিকস এবং এন্টারপ্রাইজ ইনফরমেশন টেকনোলজির জন্য তৈরি করা হয়েছে—কোনো অস্ত্র, প্রতিরক্ষা বা গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য নয়।’ দায়েরকৃত মামলায় আলিবাবা অবিলম্বে এই ব্ল্যাকলিস্ট থেকে তাদের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বেচ্ছাচারী ও খামখেয়ালি’ আখ্যা দিয়ে আলিবাবা জানিয়েছে, এর ফলে কোম্পানিটি ইতোমধ্যে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আলিবাবাকে ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অর্থ হলো এটিকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা, যা কোম্পানির সুনামকে সরাসরি ক্ষুণ্ন করেছে।
সাম্প্রতিক মার্কিন আইন অনুযায়ী, এই ব্ল্যাকলিস্টে থাকা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চলতি মাস থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো সরাসরি চুক্তি করতে পারবে না। তবে এই তালিকায় থাকা মানেই কোম্পানির ওপর সরাসরি কোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়া নয়। চলতি মাসে আলিবাবা ছাড়াও এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে চীনের জনপ্রিয় ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন বাইদু, গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি ও নিও এবং বায়োটেকনোলজি কোম্পানি উক্সি অ্যাপটেক।
|