শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে যে ৫ লক্ষণ দেখা দেয়

প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে যে ৫ লক্ষণ দেখা দেয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক : মানবদেহের সঠিক বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য একটি উপাদান হলো প্রোটিন। শরীরের ভেতরের পেশি তৈরি, চুল, ত্বক ও নখ ভালো রাখা থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে প্রোটিন সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। তবে বর্তমান সময়ে ওজন কমানোর জন্য কঠোর ডায়েটিং, পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের ফলে অনেকের শরীরেই প্রোটিনের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়। শরীরে এই ঘাটতি তৈরি হলে আমাদের দেহ নিজে থেকেই কিছু স্পষ্ট সংকেত বা লক্ষণ প্রকাশ করতে শুরু করে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের বরাতে প্রোটিনের অভাবজনিত প্রধান ৫টি লক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক লক্ষণগুলো কী কী

রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও যদি সারাদিন শরীর ভীষণ দুর্বল ও ক্লান্ত লাগে, কোনো কাজে মন না বসে কিংবা সামান্য পরিশ্রমের কাজ করলেই আপনি হাঁপিয়ে ওঠেন, তবে তা শরীরে প্রোটিনের অভাবের একটি বড় লক্ষণ হতে পারে। শরীরের দীর্ঘস্থায়ী শক্তি ধরে রাখতে প্রোটিন খুবই জরুরি। এর ঘাটতি হলে শরীর দ্রুত তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

হঠাৎ করে অতিরিক্ত চুল পড়া, সামান্য আঘাতেই নখ ভেঙে যাওয়া কিংবা ত্বক অতিরিক্ত খসখসে ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া প্রোটিন কমে যাওয়ার অন্যতম লক্ষণ। কারণ মানুষের চুল, নখ ও ত্বকের মূল গাঠনিক উপাদানই আসে প্রোটিন থেকে। শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে এসব বাহ্যিক অংশগুলো সবার আগে পুষ্টিহীনতায় ভোগে।

রক্তে ও কোষে প্রোটিনের মাত্রা কমে গেলে শরীর তার দৈনন্দিন শক্তির জোগান দিতে নিজের ভেতরে থাকা পেশি বা মাংসপেশি ভাঙতে শুরু করে। এর ফলে হাত-পায়ে জোর কমে যায়, শরীর সবসময় আলগা ও দুর্বল লাগে এবং ধীরে ধীরে ওজনও হ্রাস পেতে পারে। অনেক সময় এই কারণে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে বা ভারী কোনো জিনিস তুলতেও প্রচণ্ড কষ্ট হয়।

কোনো চোট বা আঘাত ছাড়াই যদি হঠাৎ হাত, পা কিংবা মুখ ফুলে ওঠে, তবে তা প্রোটিনের ঘাটতির গুরুতর লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, রক্তে ‘অ্যালবুমিন’ নামের এক ধরনের বিশেষ প্রোটিন কমে গেলে টিস্যুর ভেতরে পানি জমতে শুরু করে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোলা ভাব বা ‘এডিমা’ দেখা দেয়।

প্রোটিন মূলত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেম বাড়াতে সাহায্য করে। এই কারণে শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে শ্বেত রক্তকণিকা ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি সামান্য ঋতু পরিবর্তনেই ঘনঘন সর্দি-কাশি, জ্বর ও বিভিন্ন ছোঁয়াচে সংক্রমণে ভোগেন এবং শরীরের কোথাও কেটে গেলে সেই ক্ষত শুকাতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে প্রোটিনের এই বিপজ্জনক ঘাটতি পূরণ করতে প্রতিদিনের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অবশ্যই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার চেষ্টা করতে হবে। প্রতিদিনের মেন্যুতে ডিম, সামুদ্রিক বা দেশি মাছ, চামড়াবিহীন মুরগির মাংস, খাঁটি দুধ ও দই রাখা উচিত। এছাড়া যারা নিরামিষভোজী তারা প্রোটিনের জোগান বাড়াতে নিয়মিত বিভিন্ন রকমের ডাল, ছোলা, সয়াবিন, পনির ও কাঠবাদাম খাদ্যতালিকায় যুক্ত করতে পারেন।

জান্নাত সকালাবেলা

মন্তব্য করুন