জাপানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ণ
জাপানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে জ্বালানি অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশে শিল্পকারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি পার্ক গড়ে তোলা, মহাকাশ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা এবং ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দেশব্যাপী উড়াল সড়ক ও উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণে জাপানের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওতে অবস্থিত জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রধান কার্যালয়ে জেট্রো এবং জাপান–বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার সময় জাপান আমাদের পাশে ছিল। এখন আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি, আমাদের সঙ্গে মিলে শিল্পকারখানা গড়ে তুলুন, নতুন সুযোগ সৃষ্টি করুন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে এগিয়ে চলুন। আমাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট। আসুন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বে পরিণত করি। আমাদের জনগণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পারস্পরিক সুযোগ সৃষ্টি করি এবং দুই দেশের জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করি।"

বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করলে জাপানি বিনিয়োগকারীরা একটি বড় ও ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি উৎপাদনের বিভিন্ন সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন। জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা এবং কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত জাপানিজ ইকোনমিক জোনে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে এবং এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

তারেক রহমান ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোকে প্রধান তিনটি খাত—জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা এবং পরিবহন অবকাঠামোতে বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন।

জ্বালানি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি অপরিহার্য। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি একান্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা পূরণে জাপানি কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার এবং জ্বালানি অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"

প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদন কেন্দ্রিক ‘বাংলাদেশ–জাপান প্রযুক্তি পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের উন্নত সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মহাকাশ সক্ষমতা জোরদারে যৌথ সহযোগিতার কথা জানান তিনি।

যোগাযোগ অবকাঠামো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীল অর্থনীতির জন্য উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা প্রয়োজন। সরকার ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দেশব্যাপী উড়াল সড়ক ও উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের বিশ্বজোড়া সুনাম থাকায় এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের অংশগ্রহণকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ও করব্যবস্থার সহজীকরণে জাপানি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করছে। ব্যবসা পরিচালনায় আস্থা ও নিশ্চিততা তৈরিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জনগণের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানে যান এবং অর্জিত দক্ষতা দেশে ফিরে দুই দেশের বাণিজ্য প্রসারে কাজে লাগান। বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক সহযোগিতার কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে এবং জাপানের ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদান বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। জেট্রোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

এআইএল/সকালবেলা