ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: পুলিশকে হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: পুলিশকে হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (ফাইল ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পুলিশের মধ্য থেকে কেউ যদি এখনো গোপন বা প্রকাশ্যভাবে ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে এবং তাদের বিভিন্ন ধরনের গোপন সংবাদ বা তথ্য সরবরাহ করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো লঘু শাস্তি নয়, সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে মামলা করা হবে বলে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’-এর জমকালো ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।

পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ ও তথ্য দিচ্ছে। আমি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই—পুলিশের কোনো সদস্য যদি শৃঙ্খলা না মানে এবং এমন রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়ায়, তবে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ প্রয়োজনীয় কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে সরকার বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না।”

পুলিশ সদস্যদের কাজের মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার নীতিগতভাবে ‘পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড’ বা শাস্তি ও পুরস্কারের নীতি চালু রেখেছে। যারা সততা, নিষ্ঠা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হবে। পক্ষান্তরে, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা কোনো ধরনের অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি সরাসরি ফৌজদারি আইনে বিচার করা হবে।

বিগত দিনের পুলিশি ব্যবস্থার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, অতীতে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার ও অপব্যবহার করার একটি দীর্ঘ রেকর্ড রয়েছে। অনেক সদস্যকে বাধ্য করা হয়েছিল অবৈধ ও বেআইনি নির্দেশ পালন করতে। তবে বর্তমান সময়ে পুলিশ সদস্যদের সামনে নিজেদের পুরোপুরি সংশোধন করার এবং সম্পূর্ণ নতুনভাবে ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “দেশের সাধারণ মানুষ এখন আর কোনো রাজা-বাদশাহ বা শাসক দেখতে চায় না, তারা চায় প্রকৃত ‘জনগণের পুলিশ’। কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না যা সাধারণ মানুষের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। একইভাবে অধস্তন কোনো সদস্যের এমন কোনো অপকর্মেও কোনো ধরনের অনুমতি বা প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না যা সমাজে অশান্তি বা অস্বস্তি সৃষ্টি করে।”

বর্তমান সরকারের মেয়াদে পুলিশকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রশাসনিক কোনো অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ পুলিশ বাহিনীতে থাকবে না। তবে দায়িত্ব পালনে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না।

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দেন, অপরাধের একটি বড় অংশ এখন সাইবার জগতকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। তাই পুলিশের সাইবার অপরাধ দমনের সক্ষমতা বাড়াতে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি স্বতন্ত্র ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠন করা হবে। এর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এর শাখা বা কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে। ধাপে ধাপে পুলিশের লজিস্টিকস, আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব এবং অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিটের সক্ষমতাও বহুগুণ বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

সবশেষে পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আগামী ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের কাজের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা দেশের মানুষকে দেখাতে হবে। দেশপ্রেম, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে পুলিশই পারে সমাজ পরিবর্তনের মূল নেতৃত্ব দিতে।”

মন্তব্য করুন