উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিতে বিশ্ববাসীর সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন:শামা ওবায়েদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: উন্নয়নের অধিকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার, সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা এবং সম্মিলিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের ঐতিহাসিক ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’ গ্রহণের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অংশীজনরা অংশ নেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের উদ্যোগে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “উন্নয়ন কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি মানুষের একটি অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার। এই অধিকার প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।”
এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানের মতো যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি জাতীয় অগ্রগতির প্রকৃত অংশীদার হিসেবে নারী সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের সপ্রভ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ এমন একটি ‘রেইনবো নেশন’ বা বর্ণিল জাতির স্বপ্ন দেখে, যে সমাজে উন্নয়নের আলো থেকে কোনো নাগরিকই পিছিয়ে থাকবে না।”
অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক বৈষম্য দূর করতে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোকে আরও অধিকতর ন্যায়সঙ্গত করা, উন্নয়ন ও জলবায়ু অর্থায়নে পূর্বানুমেয়তা ও সমতা নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) সব দেশের সমান সুযোগ তৈরি করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে উন্নয়নের অধিকারকে আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার আওতায় আনতে একটি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক কাঠামো গঠনের জোরালো প্রস্তাব রাখেন তিনি।
জাতিসংঘের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উন্নয়নের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক টেকসই সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।