পলাতক আ:লীগ নেতা লিটনের বিলাসী বিয়ে, তৃণমূলে ক্ষোভ

প্রকাশ: রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ণ
পলাতক আ:লীগ নেতা লিটনের বিলাসী বিয়ে, তৃণমূলে ক্ষোভ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পলাতক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও ২৫ নম্বর রামপুরা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সবুর লিটন বিলাসবহুল আয়োজনে গোপনে তাঁর তৃতীয় বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর এই রাজকীয় বিয়ের একাধিক ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

দলটির মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, যেখানে দেশে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মীরা প্রতিনিয়ত পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, সেখানে হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সবুর লিটন দুবাইয়ে কোটি টাকা উড়িয়ে তৃতীয় বিয়ে করে রীতিমতো আয়েশী জীবনযাপন করছেন। এটি কর্মীদের আবেগ নিয়ে এক ধরনের উপহাস।

এর আগে দেশে দুই বোনকে একসঙ্গে বিয়ে করে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন আওয়ামী লীগের এই বিতর্কিত নেতা। জানা যায়, ২০০৪ সালে হালিশহরের রামপুরার রঙ্গীপাড়ার সালেহ জহুরের দুই মেয়ে বেবি আক্তার ও সুমি আক্তারকে (যারা আপন দুই বোন) নজিরবিহীনভাবে একসাথে বিয়ে করেন লিটন। ইসলামি শরিয়তের বিধান মতে আপন দুই বোনকে একসাথে স্ত্রী হিসেবে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা হারাম হওয়া সত্ত্বেও তিনি এই বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘ সংসার জীবনের পর পরবর্তীতে তিনি এক বোনকে তালাক দেন। এছাড়া দেশে থাকাকালীন জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে অবৈধ ও নকল বিদেশি সিগারেট তৈরির ব্যবসার মূল হোতা হিসেবেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে দুবাইয়ের একটি অভিজাত হোটেলে এক বাংলাদেশি তরুণীকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে বিয়ে করেন লিটন। এটি ছিল তাঁর তৃতীয় বিয়ে। চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে দুবাইয়ে অবস্থান করা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে সশরীরে অংশ নিয়েছিলেন।

সম্প্রতি তাঁদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে এক শুভাকাঙ্ক্ষী কেক কাটার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করলে পুরো ঘটনাটি সামনে আসে। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, বরবেশী লিটন দামী শেরওয়ানি পরে কনের সাথে বেশ ফুরফুরে মেজাজে কেক কাটছেন ও ছবি তুলছেন। তবে তাঁর এই তৃতীয় স্ত্রীর নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ইসমাঈল হোসেন নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “বিগত সরকারের ১৭ বছর ধরে জনগণের রক্ত চোষা ও লুট করা টাকায় বিদেশে এমন রাজকীয় জীবনযাপন করা সম্ভব।” মো. ইমন নামে অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, “মাদক ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের টাকা চুরি করে বিদেশে পালিয়েও বহাল তবিয়তে আছেন এই নেতা, অথচ এদের বিচার হওয়া উচিত ছিল।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই অবৈধ পথে ভারতে গা ঢাকা দেন আব্দুস সবুর লিটন। সেখানে কিছুদিন অবস্থান করার পর তিনি পাড়ি জমান দুবাইয়ে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংগঠিত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনে নিজের বিশাল কিশোর গ্যাং ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর মূল পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এই সবুর লিটন। তাঁর বাহিনীর গুলিতে ওই সময় চট্টগ্রামের বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন