‘৮৫ হাজার টাকায় মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কথা বলায় হুমকি পাচ্ছি, তোয়াক্কা করি না’
অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় সংসদে মাত্র ৮৫ হাজার টাকা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর দাবি তোলায় একটি স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেট ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে জনগণের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তিনি এমন কোনো হুমকির তোয়াক্কা করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় সভায় বিরোধী দলীয় নেতা এসব কথা বলেন।
প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সব সময় সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, "আমরা ইনশাআল্লাহ সংসদে প্রবাসীদের এই দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করতে থাকব। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিয়ে আমরা কথা বলেছি, যা আপনারা সবাই দেখেছেন। আজ জানতে পারলাম যে, একদল মানুষ আমার ওপর দারুণ খেপে গেছে। আমার অপরাধ— আমি কেন বললাম মালয়েশিয়ায় ৮৫ হাজার টাকায় লোক পাঠাতে হবে এবং দালালদের আইনের আওতায় আনতে হবে।"
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, "আমি কি সুনির্দিষ্ট কোনো দালালের তালিকা দিয়েছি? আপনাদের জানা মতে, আমি কি কোনো বিশেষ এজেন্সির নাম বলেছি? আমি তো কোনো নাম বলিনি, তাহলে কিছু লোকের গায়ে এত আঘাত লাগে কেন?"
সিন্ডিকেটের তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, "এই মানবপাচার ও অভিবাসন সিন্ডিকেট শুধু মালয়েশিয়ায় নয়, সারা বিশ্বেই বিস্তৃত। আমাদের দেশের এই দরিদ্র ও সাধারণ মানুষগুলোকে তারা নিঃস্ব করে দেয়। এরপরও বহু মানুষ বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন। সেখানে গিয়ে দেখা যায় তাদের কাগজপত্রের বৈধতা নেই, ফলে তাদের জেলে কাটাতে হয়। আমরা কি এগুলো নীরবে হজম করব? মুখ বুজে দেখতে থাকব? কখনোই না। এগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। আমরা সংসদের ভেতরে চিৎকার দেবো, আওয়াজ তুলবো এবং বাইরেও আপনাদের সঙ্গে নিয়ে জনমত তৈরি করব।"
বাজেট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে মুদি দোকানের কর প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, "মুদি দোকানদাররা সাধারণ ও দরিদ্র মানুষ। তাদের ওপর প্রস্তাবিত বাজেটে উৎসে বা অগ্রিম কর আরোপের একটি প্রস্তাবনা এসেছিল। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করে কথা বলেছি। আমাদের জোরালো অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব বাদ দেওয়া হয়েছে।"
দেশের প্রচলিত অর্থবছর পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, "আমরা বাজেট বা অর্থবছর পরিবর্তনের যৌক্তিক দাবি তুলেছি। আমাদের দেশে একটা 'উন্নয়নের দানব' আছে। এই দানব বছরের প্রথম নয় মাস কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমায়। আর শেষ তিন মাস এসে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। তখন ঝড়ের গতিতে কাজ শুরু করে, যার ফলে বর্ষার বৃষ্টিতে জনগণের কোটি কোটি টাকা পানির সঙ্গে মিশে ভেসে যায়। এই সংস্কৃতির কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম, দেশের আবহাওয়া এবং সিজন বিবেচনা করে অর্থবছরটি যেন ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। তাহলে শেষ তিন মাসে এই উন্নয়ন দৈত্যের ঘুম ভাঙলেও আমাদের জাতীয় সম্পদ এভাবে পানিতে ভেসে যাবে না।"
বিদেশ থেকে আমদানি করা সাইকেলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহারের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা সাইকেলের পার্টসের ওপর থেকে অতিরিক্ত ট্যাক্স তুলে দিতে বলেছিলাম। অর্থমন্ত্রী তাঁর সমাপনী বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছিলেন এবং আমরা ইতিমধ্যেই সেই লিখিত প্রস্তাব জমা দিয়েছি।"
|