চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রামবাসীকে নিয়ে অবৈধ পুশ-ইন ঠেকাল বিজিবি
বিএসএফের লাইট বন্ধ করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, গ্রামবাসীকে নিয়ে রুখে দিল ৫৯ বিজিবি
অনলাইন ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) চৌকস সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীর যৌথ ও প্রশংসনীয় তৎপরতায় ওপার থেকে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের একটি বড় প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শুক্রবার রাত প্রায় ১১টার দিকে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ চকপাড়া বর্ডার আউটপোস্টের (বিওপি) বিপরীতে ভারতের ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মল্লিক সুলতানপুর ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এক রহস্যজনক তৎপরতা লক্ষ করা যায়। সেখানকার সীমান্ত পিলার ১৮৩/৩-এস থেকে আনুমানিক ৬০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত মুসলিমপাড়া নামক এলাকায় বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের নিরাপত্তা বাতি (বর্ডার সিকিউরিটি লাইট) সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। লাইট বন্ধ করে অন্ধকারের মধ্যে সেখানে কিছু সন্দেহভাজন লোকের সমাগম ঘটানো হচ্ছে—এমন গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্য পায় বিজিবি। তথ্য পাওয়া মাত্রই চকপাড়া বিওপির বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে।
বিজিবি আরও জানায়, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা (সোর্স) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ওই সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে পুশ-ইনের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবির জোয়ানরা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সীমান্ত সংলগ্ন সাধারণ জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে পুরো সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয়। বিজিবি ও গ্রামবাসীদের এই কঠোর প্রতিরোধ ও সতর্ক অবস্থানের মুখে ভারতের সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশের সেই অপচেষ্টা সম্পূর্ণরূপে প্রতিহত হয়।
পরবর্তীতে একই গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বিজিবি ও স্থানীয়দের অনড় অবস্থানের কারণে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিএসএফ বাধ্য হয়ে নিজস্ব বিশেষ যানবাহনে করে ওই অবস্থানরত ব্যক্তিদের মালদা হোল্ডার সেন্টারে ফেরত নিয়ে যায়।
এই বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম একটি গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘বিজিবি বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও সকল প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে নিয়মিত টহল কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে স্থানীয় দেশপ্রেমিক জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভবিষ্যতেও সীমান্তে বিজিবির এই ধরনের কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নজরদারি তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।’
|