পঞ্চগড়ে নকল কয়েল বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ণ
পঞ্চগড়ে নকল কয়েল বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

বদরুদ্দোজা প্রধান, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে সুপরিচিত ‘জোনাকি’ ব্র্যান্ডের মোড়ক ও ট্রেডমার্ক হুবহু নকল করে মানহীন মশার কয়েল বাজারজাত ও বিক্রির অভিযোগে দুলাল হোসেন (৪৬) নামে পঞ্চগড়ের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় শহর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। একই দিন তাঁর বিরুদ্ধে বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে কসমো কনজুমার প্রোডাক্টস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্ত দুলাল হোসেন পঞ্চগড় শহরের কামাত পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পঞ্চগড় বাজারের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় মাস আগে কোম্পানির কাছে তথ্য আসে যে দুলাল হোসেন 'জোনাকী' ব্র্যান্ডের মশার কয়েলের নাম ও মোড়ক নকল করে জাল পণ্য বাজারজাত করছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাসুম উদ্দৌলার নেতৃত্বে একটি ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। তখন তাঁর দোকান থেকে ৭০ কার্টন নকল কয়েল জব্দ ও ধ্বংস করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, প্রথমবার পার পেয়ে যাওয়ার পর তিনি গোপনে আবারও একই ধরনের নকল পণ্য বাজারজাত করতে থাকেন। নিম্নমানের কয়েল কিনে প্রতারিত হওয়ার পর সাধারণ ক্রেতারা বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে পঞ্চগড় বণিক সমিতির কাছেও অভিযোগ দেওয়া হয়। সমিতির পক্ষ থেকেও তাঁকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা পুরোপুরি উপেক্ষা করেন।

পরবর্তীতে গত ৯ জুন পঞ্চগড় শহরের অগ্রদূত হোটেল প্যালেসে কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে দুলাল হোসেন জোনাকি ব্র্যান্ডের নামে নকল কয়েল বিক্রির বিষয়টি লিখিতভাবে স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই লিখিত অঙ্গীকার ভঙ্গ করে পুনরায় নকল কয়েল বিক্রি অব্যাহত রাখেন। এতে কোম্পানির প্রায় ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি এবং দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

কসমো কনজুমার প্রোডাক্টস লিমিটেডের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, "একাধিকবার আমরা বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান হয়েছে, বণিক সমিতির মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে, এমনকি আলোচনার টেবিলেও বসেছি। কিন্তু সবকিছুর পরও তাঁর নকল পণ্য বিক্রি বন্ধ হয়নি। এতে কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তারাও স্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে পড়েছেন। তাই বাধ্য হয়েই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "এ সংক্রান্ত একটি প্রতারণা মামলা রুজু হয়েছে। মামলার পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো গভীরভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন