কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ১৪ বসতঘর ও ৫ জালের গুদাম

প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৮ অপরাহ্ণ
কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ১৪ বসতঘর ও ৫ জালের গুদাম

অনলাইন ডেস্ক: কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪টি পরিবারের বসতবাড়ি এবং জেলেদের মাছ ধরার সরঞ্জাম ও জাল সংরক্ষণের ৫টি গুদামঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব মতে, এই দুর্ঘটনায় আনুমানিক ৪৪ লাখ টাকার বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফৈত্যার পাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত সূত্র জানায়, ফৈত্যার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল কাদের ও রুহুল কাদেরের বসতবাড়ির রান্নাঘর থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। বাঁশ ও টিনের তৈরি ঘর হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশাপাশি থাকা ১৪টি পরিবারের বসতবাড়ি গ্রাস করে।

অগ্নিকাণ্ডে ঘরগুলোতে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, গৃহপালিত হাঁস-মুরগি ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। বাড়িঘরের সবকিছু ছাই হয়ে গেলেও একটি পবিত্র কোরআন শরিফ আশ্চর্যজনকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত নুরুল কাদের ও মোহছেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, পরনের কাপ রাখা ছাড়া তারা আর কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। বসতবাড়ির পাশাপাশি জীবিকার একমাত্র সম্বল মাছ ধরার সরঞ্জাম ও জাল পুড়ে নিঃস্ব হয়ে এখন বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।

ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. সোহেল আহমেদ জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘনবসতি ও বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের বেশ বেগ পেতে হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় আনুমানিক প্রায় ৪৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল হক এবং কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিউল আলম। পরিদর্শনকালে তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।