কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ ও কৃষকের অধিকার সুরক্ষার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
অনক আলী হোসেন শাহিদী: দেশের কৃষিকে টেকসই, লাভজনক ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিজ্ঞানীদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিতকরণ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং আধুনিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
গত ১৫ অক্টোবর গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টি নিরাপত্তায় কৃষি গবেষণার ভূমিকা, বর্তমান অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় কৃষিমন্ত্রী মোঃ আমিনউর রশিদ, কৃষিসচিব মোঃ সেলিম খানসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা কৃষির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কেবল নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে বলেন, গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জলবায়ুসহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন এবং তা কৃষকের কাছে সহজলভ্য করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির শিকার হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। আধুনিক হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে অপচয় রোধ ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষিবিজ্ঞানীদের পেশাগত নিরাপত্তা, ইনসিটু পদোন্নতি এবং গবেষণার অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি বারির উদ্ভিদ জিন ব্যাংক পরিদর্শন করেন এবং একটি কাঁঠালের চারা রোপণ করেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের এই যৌথ উদ্যোগ দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এআইএল/সকালবেলা