গাজীপুরে যুবককে হত্যা ও গুমের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে যুবককে হত্যা ও গুমের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬

মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক: গাজীপুরের শ্রীপুরে ঋণের টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আতিকুর রহমান (২৩) নামে এক যুবককে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং পরে লাশ পুড়িয়ে গুমের চেষ্টার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। 

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান আসামিসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত আতিকুর রহমান ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার কামালপুর গ্রামের তাইজুল ইসলামের ছেলে। 

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমদ এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ইমরান হাসান (২৪), শ্রীপুরের টেপিরবাড়ী গ্রামের টুটুল হাসান (২০), মুলাইদ গ্রামের নাজমুল (৩৫), কামাল হোসেন (৩২), রুহানুল ইসলাম রুহান (২৩) ও আকবর (২৯)। পুলিশ জানায়, শ্রীপুর ও ভালুকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধান আসামি ইমরান হাসান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আতিকুর রহমান প্রধান আসামি নাজমুলের পরিচালিত একটি সমিতি থেকে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে লক্ষাধিক টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের টাকা পরিশোধ না করে তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আসামিরা আতিকুরের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে অপহরণ করে মুলাইদ গ্রামে নাজমুলের বাড়িতে আটকে রাখে। ওই রাতেই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ বস্তাবন্দী করে এমসি বাজার–সাতখামাইর সড়কের বৃন্দাবন এলাকার গজারি বনের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পেট্রোল ঢেলে লাশে আগুন ধরিয়ে দিয়ে খুনিরা পালিয়ে যায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে স্থানীয়রা পোড়া মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ তা উদ্ধার করে। লাশের আঙুলসহ শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংরক্ষণ করে মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্য ও উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এই নৃশংস ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন