বগুড়ায় আহত জামায়াত নেতা বাপ্পার মৃত্যু
ওয়াফিক শিপলু, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২৫ জুন প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বাপ্পার মৃত্যুর খবরে এলাকায় গভীর শোকের পাশাপাশি তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহ-সভাপতি এবং উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আব্দুল করিম আকন্দের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ২৫ জুন দুপুরে এই বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আব্দুল করিমের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রফিক আকন্দের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পার ওপরও নৃশংস হামলা চালানো হয়। হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্বামী ও ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে সম্রাটের মা জোসনা বেগমকেও পিটিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ। স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে সম্রাটের অবস্থার অবনতি হলে পরদিন তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার রাতে তিনি মারা যান।
এই ঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় আব্দুল করিম আকন্দসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান বলেন, “বাপ্পার মৃত্যুর পর মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। পুলিশ ইতিপূর্বেই মামলার প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল করিম আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
এদিকে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, নেতা বাপ্পার মৃত্যুর প্রতিবাদে আজ রোববার জানাজা শেষে দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করবে দলটির নেতাকর্মীরা।
এআইএল/সকালবেলা
|