আ.লীগের আইনেই তাদের বিচার হবে: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশ: রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ণ
আ.লীগের আইনেই তাদের বিচার হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আদালত প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৈরি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনেই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, টানা ১৬ বছরের শাসনামলে দলগতভাবে অসংখ্য অপরাধের জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় থেকেও বহু নৃশংস কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, যা প্রচলিত আইনে বিচারযোগ্য।

আজ রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, “গতকাল ৪ জুলাই একটি স্মরণসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের কথা উল্লেখ করেছেন। আইনি প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন’ প্রণয়ন করেছিল। পরবর্তীতে ২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকার এই আইনের অধীনেই ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করে। এমনকি ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করে ব্যক্তি বা আসামির পাশাপাশি ‘অর্গানাইজেশন’ বা দলগত বিচারের বিধান যুক্ত করা হয়।”

তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন’ পাস করে। এই আইনের ধারা অনুযায়ী কোনো দল বা সংগঠন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিচার ও নিষিদ্ধ করার আইনি সুযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট এই আইনের ১৮ ধারা ব্যবহার করেই তৎকালীন সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল। অর্থাৎ, দল নিষিদ্ধ বা বিচারের জন্য যত আইন ও সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, তা আওয়ামী লীগ নিজেই করে গেছে। বর্তমান ট্রাইব্যুনাল সেই আইনি কাঠামো ব্যবহার করেই জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার করছে। অতএব, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারও এই আইনেই হবে।

বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশে একটি চরম ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল। জনগণের মৌলিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ধ্বংস করা হয়েছিল রাষ্ট্রের সব স্তরের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে সারা দেশে একক রাজত্ব ও নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। ভোটারবিহীন, নৈশকালীন ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় বর্বরতা দৃশ্যমান হয়েছে চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে। নির্বিচারে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে গণহত্যা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্রহাতে এই হত্যাযজ্ঞে অংশ নেয়। তাদের এসব সুনির্দিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো আমাদের তদন্ত সংস্থা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন