বিশ্বকাপ কোয়ার্টারে আবার মুখোমুখি দুই বন্ধু

প্রকাশ: রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপ কোয়ার্টারে আবার মুখোমুখি দুই বন্ধু

স্পোর্টস ডেস্ক: উত্তর আমেরিকায় চলমান ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যে রোমাঞ্চকর সমীকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল, অবশেষে তা-ই সত্যি হলো। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে শেষ আটের (কোয়ার্টার ফাইনাল) মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান ফুটবলের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও মরক্কো। আর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে ফুটবলারদের দলীয় লড়াইয়ের চেয়েও বড় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে দুই পরম বন্ধুর মাঠের যুদ্ধ। ফরাসি সেনসেশন কিলিয়ান এমবাপ্পে বনাম মরক্কোর রক্ষণভাগের প্রাণভোমরা আশরাফ হাকিমি। একসময় ফ্রান্সের ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠ কাঁপানো এই দুই বন্ধুকে এবার দেশের স্বপ্ন বাঁচাতে একে অপরের মুখোমুখি হতে হবে।

চলমান টুর্নামেন্টের শেষ বত্রিশ ও শেষ ষোলোর কঠিন বৈতরণী পার করে দুই দলই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। মরক্কো যেখানে নর্থ আমেরিকার দেশ কানাডাকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে শেষ আট নিশ্চিত করেছে, সেখানে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স গতকাল রাতে লড়াকু প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়ে মরক্কোর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। আগামী ১০ জুলাই বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২:০০ টায় (১১ জুলাই ভোর) সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে এই দুই জায়ান্ট।

ফুটবল ভক্তদের মনে থাকার কথা, গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল, তবে সেটি ছিল ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের লড়াইয়ে অর্থাৎ সেমিফাইনালে। কাতার বিশ্বকাপের সেই রুদ্ধশ্বাস ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৬১ শতাংশ বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেও ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি মরক্কো। মরক্কোর সমান ৩টি অন-টার্গেট শট থাকলেও ফরাসিদের অভিজ্ঞতার কাছে হেরে ২-০ গোলের ব্যবধানে বিদায় নিতে হয়েছিল হাকিমিদের। সেবার মরক্কোর ডিফেন্সে থাকা হাকিমি বন্ধু এমবাপ্পের গোল করা আটকাতে পারলেও দলের হার এড়াতে পারেননি।

কাতারের সেই ঐতিহাসিক ও রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের পর আবারও আন্তর্জাতিক কোনো বড় আসরের মেগা মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই দুই পরাশক্তি। সেবার মরক্কো সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর ড্রেসিংরুমে যাওয়ার আগে এমবাপ্পে বন্ধু হাকিমিকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। জবাবে হাকিমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (তৎকালীন টুইটার) এমবাপ্পেকে মেনশন করে লিখেছিলেন, ‘শিগগিরই দেখা হবে বন্ধু।’ এবার অবশ্য সেমিফাইনালের এক ধাপ আগেই, অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনালেই দুই বন্ধুর ভাগ্যনির্ধারণী দেখা হতে যাচ্ছে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ১০ জুলাইয়ের এই ম্যাচটি কেবল দুই দলের ফুটবল শৈলীর লড়াই নয়, বরং দুই পরাশক্তির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা কিংবা স্বপ্নভঙ্গের এক চরম মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। মাঠের বাইরে এমবাপ্পে ও হাকিমির বন্ধুত্ব যতটা নিবিড়, মাঠের ৯০ মিনিটে দেশের জার্সিতে সেই বন্ধুত্ব ভুলে দুজনেই নামবেন পেশাদার যোদ্ধারূপে। ম্যাচ শেষে হয়তো একজন পরাজয়ের চরম গ্লানি নিয়ে কেঁদে মাঠ ছাড়বেন, আর অন্যজন পরম বন্ধুকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজে কাঁদবেন সুখের কান্না। ফুটবলপ্রেমীরা এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন ডালাসের সেই রোমাঞ্চকর ১০ জুলাইয়ের রাতের দিকে।

মন্তব্য করুন