বেগমগঞ্জে তরুণ হত্যা মামলার ২ আসামি গ্রেপ্তার
মোঃ ইয়াছিন রুবেল, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে চাঁদা না পেয়ে আলোচিত জোবায়ের হোসেন ওরফে রাকিব (২৩) হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
আজ রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত। এর আগে, গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকার রামপুরা ও বাড্ডা থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের রফিকের ছেলে সুমন এবং একই গ্রামের আলী আহমেদের ছেলে পিয়াস। অন্যদিকে নিহত রাকিব ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে। তিনি ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শপিংমলে কর্মরত ছিলেন।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, খানপুর গ্রামে নিহত রাকিবের বাবা ও চাচা যৌথভাবে নিজেদের জমিতে একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করছিলেন। ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় ওই আসামিরা রাকিবের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। রাকিব তাঁর চাচার কাছ থেকে এই চাঁদার টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিদের সাথে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
এরই জেরে গত ৩০ মে রাকিব ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শরীফপুর ইউনিয়নের পাকমুন্সিরহাট এলাকায় তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আসামিরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাকিবকে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর নিহতের মা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা ঢাকায় আত্মগোপনে ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকার হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা
|