ছাগলকাণ্ডের মতিউরের মামলার আদেশ ২১ জুলাই
আদালত প্রতিবেদক: সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ) শুনানি শেষ হয়েছে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন।
আজ রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীরের আদালতে এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দুদকের কোর্ট পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় আসামি মতিউর রহমানকে স্পেশাল জজ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে মতিউরের পক্ষে তাঁর আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও মো. বোরহান উদ্দিন মামলা থেকে তাঁর অব্যাহতি চেয়ে সওয়াল-জবাব করেন। অন্যদিকে, দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। দুই পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক আদেশ প্রদানের জন্য ২১ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেন।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মতিউর রহমান ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। প্রাথমিক তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউরের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) অনুমোদন দেয় কমিশন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সাবেক এই সরকারি কর্মকর্তা তাঁর দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া সরকারি পদের অপব্যবহার, ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয়ে নিজ নামে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ thousand ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি আত্মগোপনে থাকা মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই বন্দি রয়েছেন।
এআইএল/সকালবেলা
|