হালান্ডকে রুখতে কী ছক কষেছেন আনচেলত্তি?
স্পোর্টস ডেস্ক: উত্তর আমেরিকায় চলমান ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর (রাউন্ড অব ১৬) রোমাঞ্চকর ম্যাচে আজ রাতে নরওয়ের মুখোমুখি হচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট-ফেভারিট ব্রাজিল। তবে এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর অস্ত্র আর্লিং হালান্ডকে ঘিরে বাড়তি কোনো বিশেষ কৌশল বা ছক কষার প্রয়োজন দেখছেন না ব্রাজিলের ডাগআউটে থাকা কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ডের দৃঢ় বিশ্বাস, হালান্ডকে মাঠের ভেতর কীভাবে সফলভাবে সামলাতে হবে, সে বিষয়ে তাঁর দলের ডিফেন্ডারদের পর্যাপ্ত ও আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের মাত্র তিন ম্যাচে পাঁচটি দুর্দান্ত গোল করে ইতিমধ্যেই গোল্ডেন বুটের দৌড়ে অন্যতম শীর্ষ দাবিদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নরওয়ের ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড। আজ রাতের শেষ ষোলোর নকআউট ম্যাচেও নরওয়ের ঐতিহাসিক জয়ের পুরো ভরসা টিকে আছে এই মহাতারকা স্ট্রাইকারের ওপর।
ম্যাচ-পূর্ববর্তী অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্রাজিল বস কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হালান্ডকে ম্যান-মার্কিং বা রুখে দেওয়ার জন্য আলাদা কোনো ছক নেই তাঁদের। তিনি বলেন, ‘আর্লিং হালান্ড কীভাবে খেলে এবং বক্সের ভেতর সে কতটা বিপজ্জনক, তা বিশ্ব ফুটবলের সবাই জানে। আমার দলের ডিফেন্ডারদের নতুন করে ওকে নিয়ে বিশেষ কিছু বোঝানোর বা ক্লাসের প্রয়োজন নেই। তারা ক্লাব ফুটবলে ইউরোপের বড় বড় মঞ্চে একাধিকবার ওর বিপক্ষে খেলেছে এবং খুব ভালো করেই জানে কীভাবে ওকে আটকাতে হয়।’
আজকের ম্যাচে ব্রাজিলের নিশ্ছিদ্র রক্ষণে হালান্ডকে থামানোর মূল গুরুদায়িত্ব থাকবে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস ও অভিজ্ঞ অধিনায়ক মারকিনিওসের ওপর। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলা হালান্ডের বিপক্ষে আর্সেনালের রক্ষণভাগের জার্সিতে বহুবার মুখোমুখি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে গ্যাব্রিয়েলের। অন্যদিকে, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চেও পিএসজির হয়ে এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে একাধিকবার সফলভাবে মোকাবিলার অভিজ্ঞতা রয়েছে অধিনায়ক মারকিনিওসের।
তবে শুধু রক্ষণভাগই নয়, হালান্ডকে নিষ্ক্রিয় করতে ব্রাজিলের মাঝমাঠেরও থাকবে এক বিশাল ডিফেন্সিভ দায়িত্ব। দলের নিয়মিত মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারেসের ওপর বাড়তি চাপ ও দায়িত্ব থাকবে। ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডে খেলার সুবাদে প্রিমিয়ার লিগে হাল্যান্ডের আক্রমণাত্মক দৌড় ও খেলার ধরনকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে এই মিডফিল্ডারেরও।
ম্যাচ নিয়ে গিমারেস বলেন, ‘হালান্ডের পায়ে যেন বল পৌঁছাতে না পারে, সেটি মাঠের মাঝখানেই আটকে দেওয়াই হবে ব্রাজিলের অন্যতম মূল লক্ষ্য। আমাদের মাঝমাঠ ও রক্ষণকে নিশ্চিত করতে হবে, ও যেন ডি-বক্সের আশেপাশে সহজে পাস না পায়। আমরা অবশ্যই আমাদের চেনা ছন্দে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলব, তবে একই সঙ্গে ওর কাউন্টার অ্যাটাকের দিকেও কড়া নজর রাখতে হবে। কারণ, সামান্যতম একটি সুযোগ পেলেই হালান্ড এক নিমেষে ম্যাচের পুরো ফলাফল বদলে দিতে পারে।’
আজকের ম্যাচের আরেকটি বড় অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় তীব্র ও বৈরী আবহাওয়া। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে আজ দুই দলকে মাঠে লড়তে হবে। যদিও আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী ম্যাচের দিন তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও মাঠের ৯০ মিনিটে শারীরিক সক্ষমতার চরম পরীক্ষা দিতে হবে ফুটবলারদের।
এ প্রসঙ্গে মিডফিল্ডার গিমারেস আরও যোগ করেন, ‘এমন তীব্র গরম আবহাওয়ার সঙ্গে খুব বেশি দল বা খেলোয়াড় অভ্যস্ত নয়। এটি অত্যন্ত কঠিন ও শারীরিক শক্তির একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। তাই শুধু শুরুর একাদশ নয়, প্রয়োজনে ম্যাচের গতি ও ক্লান্তি সামলাতে সাইড বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়দেরও শতভাগ প্রস্তুত থাকতে হবে।’ কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার এই মহালড়াইয়ে আজ রাতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবলবিশ্ব এক রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায়।
|