কারাগারে বন্দি স্ত্রীর কাছে গাঁজা পৌঁছে দিতে গিয়ে স্বামী আটক
আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আঞ্চলিক অপরাধ, কারাগার শৃঙ্খলা ও স্থানীয় প্রশাসন খতিয়ান’ এবং ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, মোবাইল কোর্ট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে মাগুরার এই ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।
মাগুরা জেলা কারাগার সূত্র জানায়, দবির মোল্যার স্ত্রী তন্বী মাদক কারবারের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মাত্র দুই দিন আগে মাগুরা থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে বন্দি হন। কারাগারে থাকা অবস্থাতেই তন্বী জেলের ভেতরে মাদক সেবন বা কারবারের উদ্দেশ্যে স্বামী দবিরের মাধ্যমে বাইরে থেকে গাঁজা ভেতরে নেওয়ার একটি গোপন পরিকল্পনা করেন। স্ত্রীর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে দবির মোল্যা স্ত্রীর সঙ্গে অফিশিয়াল সাক্ষাৎ করার জন্য মাগুরা জেলা কারাগারে আসেন।
মাগুরা জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) মহিউদ্দিন হায়দার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে দবির যখন দর্শনার্থী হিসেবে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন, তখন কারাগারের আরপি (RP) গেটে দায়িত্বরত সতর্ক কারারক্ষী রফিকুল ইসলাম তার ওপর সন্দেহবশত কড়া দেহ তল্লাশি চালান। তল্লাশিকালে দবিরের পরিহিত জিন্স প্যান্টের পকেট থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৫০ গ্রাম ওজনের একটি অবৈধ গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
কারাগারের ভেতরে মাদক পাচারের এই গুরুতর চেষ্টার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (ডিসি) অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (DNC) স্থানীয় কর্মকর্তারা দ্রুত মাগুরা জেলা কারাফটকে উপস্থিত হন। সেখানে সংগৃহীত আলামত ও আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) পরিচালনা করা হয়। আদালত দবির মোল্যাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডিত দবির মোল্যাকে দর্শনার্থী থেকে সরাসরি কয়েদি হিসেবে মাগুরা জেলা কারাগারের ভেতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে কারাগার কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জান্নাত সকালবেলা
|