লরির চাপায় বাবার পর ছেলেরও মৃত্যু, শোকের মাতম নোয়াখালীতে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ণ
লরির চাপায় বাবার পর ছেলেরও মৃত্যু, শোকের মাতম নোয়াখালীতে

মোঃ ইয়াছিন রুবেল, নোয়াখালী: নোয়াখালীর কবিরহাটে তেলবাহী লরির চাপায় নিহত সার ব্যবসায়ী সফিকুর রহমানের মৃত্যুর মাত্র ছয়দিনের ব্যবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তার ছোট ছেলে সাইদুর রহমান (২০)। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে বাবা ও ছেলের এই মর্মান্তিক প্রয়াণে পুরো এলাকায় এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত সাইদুর রহমান নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড় রামদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি নোয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এর আগে গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সোনাপুর থেকে কবিরহাটগামী একটি তেলবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রান্সমিটার এলাকায় রাস্তার পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সার ব্যবসায়ী সফিকুর রহমান (৬০) এবং গুরুতর আহত হন তার দুই ছেলে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে প্রথমে মাইজদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে সাইদুর রহমানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়। টানা ছয়দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, সাইদুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকচালককে ইতোমধ্যে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত লরিটি বর্তমানে থানা হেফাজতে জব্দ রয়েছে। নিহতদের পরিবারকে আইনি সকল সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন