জগন্নাথপুরে প্রতারণা মামলায় দুই ভাই জেলে
মো. মুকিম উদ্দিন, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বহুল আলোচিত সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রতারণার মামলায় প্রধান কারিগর এনামুল হাসানের দুই ভাই ইয়াকুব ও ইসমাইলকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দেওয়া অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে সুনামগঞ্জের সংশ্লিষ্ট আদালতে আসামিরা হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াকুব ও ইসমাইল জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গোয়ালগাঁও গ্রামের মৃত আরজু মিয়ার ছেলে। এর আগে গত বুধবার (৮ জুলাই) সিআইডি আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, অলৌকিকভাবে বিপুল অর্থ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে বাদী মাওলানা ইমরান আহমদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এই ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা (জি.আর. মামলা নং-৭৭/২০১৯) দায়ের করা হয়। পূর্বে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই মামলার তদন্ত শেষে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। তবে সেই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি থাকায় বাদীপক্ষ আদালতে নারাজি আবেদন করেন। পরবর্তীতে নিম্ন আদালতে তা খারিজ হলে বাদী সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি রিভিশন মামলা (নং-৮৮/২০২০) দায়ের করেন।
ফৌজদারি রিভিশন মামলার রায়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের পূর্বের আদেশ বাতিল করেন। আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, মামলার অন্যতম আসামি হাফিজ কামরুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এনামুল হাসানের দুই ভাই ইয়াকুব ও ইসমাইলের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করলেও পিবিআই তাদের আসামি করেনি।
এ ছাড়া আত্মসাৎ হওয়া বিপুল অর্থের কোনো অংশ উদ্ধার না হওয়া এবং সেই টাকা দিয়ে কেনা জমির দলিল আলামত হিসেবে জব্দ না করাকে পূর্বের তদন্তের বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারার পাশাপাশি ১০৯ ধারা সংযুক্ত করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সিআইডির দীর্ঘ তদন্তে অপরাধের সত্যতা মেলায় অবশেষে আদালতের নির্দেশে আজ কাঠগড়া থেকে কারাগারে গেলেন এই দুই ভাই।
এআইএল/সকালবেলা
|